মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া প্রতিটি নারীর জীবনের এক পরম আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কিন্তু এই পথ সব সময় কুসুমাস্তীর্ণ হয় না। জনপ্রিয় অভিনেত্রী সম্ভাবনা শেঠ এবং তাঁর স্বামী অবিনাশ দ্বিবেদীর জীবনের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই কঠিন বাস্তবেরই এক প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ কয়েক বছরের লড়াই, শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের পর অবশেষে এই তারকা দম্পতি সুখবর শেয়ার করেছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তাঁরা জানিয়েছেন, সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের জীবনে আসতে চলেছে নতুন অতিথি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কঠিন লড়াইয়ের পথ
সম্ভাবনা এবং অবিনাশ দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানধারণের চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের এই ব্যক্তিগত যাত্রার কথা তারা অনুরাগীদের কাছে কখনও গোপন করেননি। সম্ভাবনা নিজেই জানিয়েছিলেন, মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁকে কী পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি সাত-সাতবার IVF (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছিলেন। এর জন্য তাঁকে গুচ্ছের হরমোনাল ইঞ্জেকশন নিতে হয়েছে, যা তাঁর শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।
গর্ভপাতের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা
IVF-এর এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তিনি একবার অন্তসত্ত্বা হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁরা এতটাই আনন্দিত ছিলেন যে, গর্ভাবস্থায় ফোটোশ্যুটও সেরে ফেলেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাঁদের পিছু ছাড়েনি। সম্ভাবনা অভিযোগ করেন যে, চিকিৎসকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে তাঁর গর্ভপাত হয়ে যায়। তিনি জানান, গর্ভাবস্থায় ব্লিডিং এবং তীব্র যন্ত্রণা হওয়া সত্ত্বেও ডাক্তার তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে সব ঠিক আছে। সেই সময় নিজের শারীরিক অবস্থার সাথে লড়াই করতে গিয়ে তাকে ৬৫-র বেশি ইঞ্জেকশন নিতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রিজেনিটিক টেস্টে ধরা পড়ে যে, ভ্রূণটি অস্বাভাবিক এবং তার হার্টবিটও বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনা কেবল শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল।
নতুন আশার আলো: সারোগেসি
এতবার ব্যর্থতা এবং যন্ত্রণার পর, সম্ভাবনা ও অবিনাশ অবশেষে সারোগেসির পথ বেছে নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে তাঁরা লিখেছেন,