Headlines

মমতা ও অভিষেকের অতিরিক্ত নিরাপত্তায় কাটছাঁট: নতুন নির্দেশ কলকাতা পুলিশের

মমতা ও অভিষেকের অতিরিক্ত নিরাপত্তায় কাটছাঁট: নতুন নির্দেশ কলকাতা পুলিশের Photo by Oscar Chan on Pexels

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর, তাঁদের বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার জন্য পুলিশকে আগামী সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা পর্যালোচনার প্রেক্ষাপট

মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে জেড প্লাস (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয়ে থাকেন। প্রটোকল অনুযায়ী, এই ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারিত থাকে। তবে বিগত বেশ কিছু সময় ধরে তাঁদের সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়েও অতিরিক্ত পুলিশি ব্যবস্থা এবং ব্যারিকেডিং করা হয়েছিল। রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা করার পর এই অতিরিক্ত সুরক্ষা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?

কলকাতা পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কালীঘাট রোড এবং ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত তাঁদের বাসভবন ও দফতর থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী ও গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে যে ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, তা-ও সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জেড প্লাস ক্যাটাগরির যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, শুধুমাত্র সেইটুকুই এখন থেকে বলবৎ থাকবে।

প্রশাসনের অবস্থান ও বিশেষজ্ঞ মত

পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্যজুড়ে ভিআইপি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রটোকল বহির্ভূত অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা কমিয়ে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ভিআইপি-র ক্ষেত্রে নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট করা একটি রুটিন প্রক্রিয়া। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি বা থ্রেট পারসেপশন পরিবর্তিত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

এই নিরাপত্তা সংকোচনের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতা পুলিশের এই নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর হলে, ভিআইপি সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন এক মানদণ্ড তৈরি হবে। প্রশাসনিক মহলে এখন দেখার বিষয়, এই নিরাপত্তা কাটছাঁটের পর রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পর্যালোচনা করা হয় কি না। জননিরাপত্তা এবং প্রটোকল মেনে চলাকেই এখন পুলিশি তৎপরতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *