বিমানের ভেতরে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণ: চণ্ডীগড়ে চাঞ্চল্য
মঙ্গলবার চণ্ডীগড়ের শহিদ ভগৎ সিংহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর একটি বিমানে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল। হায়দরাবাদ থেকে আসা ৬ই ১০৮ (6E 108) বিমানটি অবতরণের পর ট্যাক্সি করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে তড়িঘড়ি সমস্ত যাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত বিবরণ
দুপুর ৩টে ২৯ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি যখন ১ নম্বর বে-র দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ৩৯সি আসনে থাকা এক যাত্রীর কেবিন ব্যাগ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যাগে রাখা পাওয়ার ব্যাঙ্কের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিমানে সে সময় ১৯৮ জন যাত্রী, দুই শিশু এবং ছয় জন বিমানকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জরুরি উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল
বিমানে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই বিমানকর্মীরা দ্রুত এমার্জেন্সি প্রোটোকল সক্রিয় করেন। ঘটনার মাত্র ছয় মিনিটের মাথায়, ৩টে ৩৫ মিনিটে বিমানের জরুরি দরজা (Emergency Exit) খুলে স্লাইডের মাধ্যমে যাত্রীদের সুরক্ষিতভাবে নিচে নামানো শুরু হয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন ২৫এফ আসনের এক যাত্রী গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন এবং তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৩টে ৩৮ মিনিটে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই আগুন নিভে গিয়েছিল।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ঝুঁকি ও বিমান নিরাপত্তা
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, যা পাওয়ার ব্যাঙ্ক বা স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হয়, তা উচ্চচাপ বা তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে ‘থার্মাল রানওয়ে’ বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের পাওয়ার ব্যাঙ্ক চেক-ইন ব্যাগে না রেখে হ্যান্ড ব্যাগে রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে কেবিন ব্যাগে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণের এই ঘটনা বিমানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সংক্রান্ত নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নজরদারি
যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে বিমানটি বর্তমানে গ্রাউন্ডেড রাখা হয়েছে এবং সেটির যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা এড়াতে বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কি নতুন কোনো কড়াকড়ি আরোপ করবে, তা এখন দেখার বিষয়। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বহন এবং ব্যবহারের নিয়মাবলী সম্পর্কে আরও সচেতনতা প্রচারের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহলে।