বলিউডের রূপালি পর্দায় যাঁদের আমরা অকুতোভয় সুপারহিরো হিসেবে দেখি, পর্দার আড়ালে তাঁদের জীবনটাও যে রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই সাধারণ, তা মাঝে মাঝে আমাদের বিস্মৃত হয়। রুপালি জগতের চাকচিক্য আর গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় তাঁদের ব্যক্তিগত লড়াইগুলো। বলিউডের ‘খিলাড়ি’ খ্যাত অক্ষয় কুমার, যিনি তাঁর দুর্ধর্ষ স্টান্ট এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত, তিনিও যে শারীরিক সমস্যার ঊর্ধ্বে নন, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি অভিনেতার একটি অস্ত্রোপচারের খবরে তাঁর অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
পর্দার খিলাড়ির আড়ালে এক মানুষ অক্ষয়
অক্ষয় কুমার মানেই টানটান উত্তেজনা, অ্যাকশন দৃশ্য আর কঠোর পরিশ্রম। বছরের পর বছর ধরে তিনি যেভাবে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে চলেছেন, তাতে তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু এই কঠোর পরিশ্রমের একটা দামও তাঁকে দিতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় বহুবার শ্যুটিংয়ের সেটে চোট পেয়েছেন তিনি। তবে এবার কোনো অ্যাকশন দৃশ্য নয়, বরং শারীরিক এক সমস্যার কারণে তাঁকে সাময়িকভাবে অভিনয় জগত থেকে বিরতি নিতে হয়েছে। অভিনেতার চোখে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যার কারণে তাঁকে চিকিৎসকদের পরামর্শে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে।
অসুস্থতা ও অস্ত্রোপচারের নেপথ্যে
অক্ষয় কুমারের চোখের এই সমস্যাটি খুব বড় না হলেও অবহেলা করার মতো ছিল না। দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতেই তিনি এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা তাঁকে এই মুহূর্তে কাজ থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। কাজের নেশায় মত্ত থাকা অক্ষয় কুমারের মতো অভিনেতার কাছে এই বিরতি নেওয়া হয়তো সহজ নয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি ‘কেরলম’ ছবির কাজ শেষ করেছেন, যেখানে বিদ্যা বালান ও রাশি খান্নার মতো তারকাদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যাবে। এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলো সুস্থ হয়ে আবার পুরোদমে কাজে ফেরা।
অতীতের অলৌকিক অভিজ্ঞতার স্মৃতি
অক্ষয় কুমারের জীবনের কঠিন সময়ে লড়াই করার মানসিকতা নতুন নয়। সম্প্রতি তিনি তাঁর শৈশবের এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা আজও ভক্তদের শিহরিত করে। ছোটবেলায় মা-বাবার সঙ্গে বৈষ্ণোদেবী মন্দির দর্শনে গিয়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ১০৪ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। চিকিৎসাও যখন কোনো কাজ করছিল না, তখন এক অপরিচিত ব্যক্তির আশ্বাসে তিনি অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই ঘটনার স্মৃতি তাঁর মনে অস্পষ্ট থাকলেও, বাবা-মায়ের মুখ থেকে শোনা এই গল্পটি তাঁকে সবসময় ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে।
অক্ষয় কুমারের মতো একজন মানুষ, যিনি তাঁর পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার কাছে, তিনি যে শারীরিক প্রতিকূলতার সামনে হার মানবেন না, তা বলাই বাহুল্য। চোখের অস্ত্রোপচার পরবর্তী এই বিশ্রাম তাঁর শরীরের জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানসিক পুনরুজ্জীবনের জন্যও জরুরি। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে আবারও নতুন উদ্যমে ক্যামেরার সামনে ফিরবেন। তারকাদের জীবন কেবল গ্ল্যামার নয়, বরং তাঁদের এই লড়াই ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পগুলোই আমাদের জীবনের কঠিন সময়ে অনুপ্রেরণা জোগায়। সুস্থতা ও সাফল্যের পথে তাঁর এই সাময়িক বিরতি হয়তো নতুন কোনো বড় কামব্যাকের পূর্বাভাস মাত্র।