Headlines

বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পে রাজ্যজুড়ে দুর্যোগের আশঙ্কা, ১১ জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা

বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পে রাজ্যজুড়ে দুর্যোগের আশঙ্কা, ১১ জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা Photo by Sebastian Balog on Pexels

বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ এবং বায়ুমণ্ডলের ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের ১১টি জেলা এবং উত্তরবঙ্গের একাংশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া পরিবর্তনের নেপথ্যে বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব বিহার ও সংলগ্ন এলাকার ঘূর্ণাবর্তটি বর্তমানে উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা রাজ্যের আবহাওয়ায় অস্থিরতা তৈরির মূল কারণ।

পাশাপাশি, পূর্ব রাজস্থান থেকে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প অবাধে রাজ্যে প্রবেশ করছে, যা বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

কোন জেলাগুলোতে সতর্কতা?

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। এই জেলাগুলোর জন্য কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঝড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের দুই দিনাজপুর ও মালদাতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

কৃষি ও জনজীবনে প্রভাব

হঠাৎ এই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসে চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রবি শস্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ঘরবাড়ি ও বৈদ্যুতিক লাইনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকায় জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, দুর্যোগ চলাকালীন সাধারণ মানুষকে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে খোলা জায়গায় না থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। ১১ তারিখ পর্যন্ত এই অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

আগামীদিনের পূর্বাভাস

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বায়ুমণ্ডলের এই ঘূর্ণাবর্তটি সরে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্যোগের রেশ কাটবে না। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং নিয়মিত বুলেটিনের মাধ্যমে আপডেট প্রদান করবে। বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া বার্তার দিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *