Headlines

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: মিঠুন চক্রবর্তী ও বিপ্লব দেবের নেপথ্য কাহিনী

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: মিঠুন চক্রবর্তী ও বিপ্লব দেবের নেপথ্য কাহিনী Photo by Sandeep Kashyap on Pexels

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে রাজ্যে গেরুয়া ঝড় বয়ে যাওয়ার পর, বিজেপি সরকার গঠনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সাফল্যের নেপথ্যে যে কঠোর পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিনের রণকৌশল কাজ করেছে, তা আজ স্পষ্ট। বিজেপির এই জয়ের কারিগরদের মধ্যে অন্যতম প্রধান দুই ব্যক্তিত্ব হলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং প্রখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাদের এই জয়ের যাত্রাপথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ, কিন্তু লক্ষ্য ছিল অবিচল।

বিপ্লব দেবের দূরদর্শী রণকৌশল

ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে যখন বিজেপি কেন্দ্রীয় সহ নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেয়, তখন থেকেই তিনি রাজ্যের তৃণমূল স্তরে সংগঠন মজবুত করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার মতে, গত চার মাসের নিরলস পরিশ্রম এবং নিখুঁত স্ট্র্যাটেজিই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিপ্লব দেব আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিনের ভয় কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি আস্থা রেখেছেন। তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই সরকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হবে। বিপ্লব দেবের মতে, অমিত শাহের নির্দেশনায় এবং বিজেপির তৃণমূল কর্মীদের নিঃশব্দ লড়াইয়ের ফসলই হলো আজকের এই জয়।

মিঠুন চক্রবর্তীর আবেগ ও সংগ্রামের কথা

বিজেপির প্রচারে মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতি ছিল এক বিশাল ফ্যাক্টর। তিনি কেবল একজন তারকা হিসেবে নয়, একজন সক্রিয় যোদ্ধা হিসেবে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মিঠুন চক্রবর্তী তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এই জয় তাঁর কাছে কেবল রাজনৈতিক জয় নয়, বরং এটি বাংলার ‘স্বাধীনতার দিন’। রাজ্যের আগের শাসনব্যবস্থায় যে অরাজকতা, আত্মহত্যার প্রবণতা এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তার হাত থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।

কঠিন লড়াইয়ের নেপথ্য কাহিনী

মিঠুন চক্রবর্তী তার প্রচারের সময়ের কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘কত কটাক্ষ শুনেছি, কত অপমান সহ্য করেছি। কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরিনি।’ তিনি জানান, একটানা প্রচারের চাপে এবং শারীরিক ক্লান্তিতে অনেক সময় তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভাঙতে না দিয়ে, তিনি গোপনে সেই রক্ত মুছে আবার প্রচারের ময়দানে ফিরে গিয়েছেন। আভিজাত্য বা তারকাসুলভ জীবন ছেড়ে সাধারণ মুড়ি আর শসা খেয়ে তিনি গ্রামগঞ্জে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছেন। এই আত্মত্যাগই হয়তো তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের অনেক কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

রাজনৈতিক জয় কেবল সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং তার পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও নিষ্ঠা। বিপ্লব দেবের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং মিঠুন চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বের অদম্য জেদ প্রমাণ করে যে, যখন কোনো আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করা হয়, তখন প্রতিকূলতাও পথ ছেড়ে দেয়। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গঠনের এই মুহূর্তটি কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন নয়, বরং এটি সেই সকল কর্মীদের শ্রমের স্বীকৃতি, যারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্য অর্জনে অটল ছিলেন। ভবিষ্যতের পথে এই জয় কতটা স্থায়ী হবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা, তবে আজকের এই দিনটি নিশ্চিতভাবেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *