মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী
শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২৫শে বৈশাখের এই বিশেষ দিনে রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শপথ গ্রহণের ঠিক পরেই শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার রাজনীতিতে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন মেরুকরণ
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল, এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল। একদিকে যখন শুভেন্দু অধিকারী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন, অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে রুখতে বামপন্থীসহ সকল বিরোধী দলকে নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, দেশের ও বাংলার স্বার্থে বিজেপিকে প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে তিনি সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
মহাকরণে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তুতি
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ঐতিহাসিক মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ৩ তলার বিশেষ কক্ষ। ১৭৭৬ সালে নির্মিত এই ভবনটি কলকাতার ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরটি সাজানো হয়েছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ছবি, ট্রাম, গঙ্গা এবং নেতাজির মূর্তির আদলে, যা প্রশাসনিক ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট গড়ার ডাক এবং শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর অবস্থান রাজ্যে একটি দ্বিমুখী রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে বামপন্থীদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করলেও, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষসহ বেশ কিছু বাম নেতৃত্ব এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, রাজ্যের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব বিজেপির জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে।
ভবিষ্যতের পথচলা ও প্রভাব
নতুন সরকারের এই যাত্রা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে রাজ্যের সরকারি প্রকল্পগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে এবং বিরোধী দলগুলো তাদের কৌশল কীভাবে পরিবর্তন করবে, তা এখন দেখার বিষয়। এছাড়া, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট গড়ার প্রচেষ্টা কতটা সফল হয় এবং বিজেপি সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।