শিশুদের পাঠ্যবইয়ে থাকা জনপ্রিয় ইংরেজি ছড়া ‘রেইন, রেইন, গো অ্যাওয়ে’ (Rain, Rain, Go Away)-কে ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে দাবি করলেন উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়। শনিবার লখনউয়ের একটি অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই ছড়াটি বৃষ্টিকে চলে যেতে উৎসাহিত করে, যা আমাদের কৃষিপ্রধান ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর আগে তিনি ‘জনি জনি ইয়েস পাপা’ ছড়া নিয়েও একই ধরনের আপত্তি তুলেছিলেন, যা বর্তমানে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পটভূমি ও বিতর্ক
ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি মাধ্যমের প্রভাব এবং তার সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতির ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলছে। যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ের মতে, বর্তমান পাঠ্যবইয়ে থাকা অনেক পাশ্চাত্য ছড়া শিশুদের মধ্যে ভুল মূল্যবোধ তৈরি করছে। তিনি মনে করেন, বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক আশীর্বাদকে চলে যেতে বলা ভারতীয় দর্শনের বিপরীত, যেখানে বৃষ্টিকে প্রাণের উৎস হিসেবে দেখা হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তি
যোগেন্দ্র উপাধ্যায় তাঁর যুক্তিতে জানিয়েছেন, ‘জনি জনি ইয়েস পাপা’ ছড়াটি শিশুদের অভিভাবকদের কাছে মিথ্যা বলতে উৎসাহিত করে। একইভাবে, ‘রেইন রেইন গো অ্যাওয়ে’ ছড়াটি শিশুদের মনে বৃষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা দিতে পারে। তাঁর মতে, পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে হিন্দি কবিতা পড়ানো উচিত, যা শিশুদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটাবে। তিনি শিক্ষকদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে যে, ছড়া পরিবর্তনের চেয়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা বেশি জরুরি। সমালোচকদের মতে, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বদলে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা অপ্রাসঙ্গিক।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই ধরণের মন্তব্য উত্তরপ্রদেশের শিক্ষানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। যদি সরকার পাঠ্যবই থেকে এই ছড়াগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর সিলেবাসে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী দিনে পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি বনাম আধুনিক শিক্ষার এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর থাকবে শিক্ষাবিদদের।