Headlines

টলিউডের অন্দরে ‘ব্যান কালচার’ ও রাজনীতির দাপট: শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ

টলিউডের অন্দরে 'ব্যান কালচার' ও রাজনীতির দাপট: শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ Photo by cottonbro studio on Pexels

টলিউডের স্টুডিও পাড়া দীর্ঘ সময় ধরেই নানা বিতর্ক ও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাব এবং তথাকথিত ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে শিল্পীদের ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায় ও টালিগঞ্জের জয়ী প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী যেভাবে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন, তা এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্টুডিও পাড়ায় শিল্পীদের ওপর রাজনীতির শাসন, ভয় দেখানো এবং কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাধ্যবাধকতা নিয়ে যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পের সুস্থ পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক মতাদর্শই কি কাজের মাপকাঠি?

শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মতে, বর্তমান টলিউডে কাজ পাওয়া বা টিকে থাকার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হওয়া যেন এক অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি কোনো শিল্পী বা কলাকুশলী তৃণমূলের মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত না হন, তবে তাঁর জন্য কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, রাজনীতির কারণে তাঁর থিয়েটার দলও সরকারি হল পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। এই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ কেবল শিল্পীদের ব্যক্তিগত ক্ষতিই করছে না, বরং সামগ্রিকভাবে বাংলা শিল্পের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ ও ক্ষমতার দাপট

টালিগঞ্জের রাজনীতিতে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের নাম দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। পাপিয়া অধিকারী ও শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, স্টুডিও পাড়ার নিয়ন্ত্রণ একচেটিয়াভাবে এই দুই ভাইয়ের হাতেই ছিল। প্রযুক্তিগত গিল্ড হোক বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য শাখা, সর্বত্রই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাপিয়া অধিকারীর দাবি, কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই অনেকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন এবং সাধারণ কলাকুশলীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন।

শিল্পের মুক্ত পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা

একটি সুস্থ চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা। যখন শিল্পীরা ভয় পেয়ে কাজ করেন বা রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করতে বাধ্য হন, তখন শিল্পের মান পড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। স্টুডিও পাড়ায় যে ‘ব্যান কালচার’-এর কথা বারবার উঠে আসছে, তা আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক চরম আঘাত। শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরা এখন সেই পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন, যেখানে একজন শিল্পী তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নয়, বরং তাঁর কাজের দক্ষতার জন্য মূল্যায়িত হবেন।

বাংলা সিনেমাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে এই রাজনৈতিক বেড়াজাল থেকে টালিগঞ্জকে মুক্ত করা প্রয়োজন। ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ টলিউডকে পুনরায় তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে হলে কেবল পরিকাঠামো বদলই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। শিল্পীদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং মেধার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এই শিল্পের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হতে পারে। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে যখন শিল্প আবার শিল্পের জায়গায় ফিরে আসবে, তখনই বাংলা চলচ্চিত্র নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে এবং বিশ্বদরবারে নিজের যোগ্য স্থান পুনরায় অর্জন করতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *