Headlines

হরিশ মুখার্জি রোডে নিরাপত্তা কড়াকড়ি শিথিল: ফিরবে কি বাস পরিষেবা?

হরিশ মুখার্জি রোডে নিরাপত্তা কড়াকড়ি শিথিল: ফিরবে কি বাস পরিষেবা? Photo by AVIJIT MUKHOPADHYAY on Pexels

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরপরই কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের নিরাপত্তা বলয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে থাকা দীর্ঘদিনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবহন মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এই রাস্তা দিয়ে কি পুনরায় আগের মতো বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে?

নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও জনদুর্ভোগের প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন ধরে হরিশ মুখার্জি রোড এলাকাটি জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। পুলিশের কিয়স্ক, গার্ড রেল এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা রক্ষীদের উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ জারি ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই কঠোর নিরাপত্তার কারণে তাদের নিত্যদিনের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। ছোট একটি দূরত্ব অতিক্রম করতেও তাদের ঘুরপথে অনেকখানি রাস্তা পেরোতে হতো, যা বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল।

পরিবহন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব

এক সময় হরিশ মুখার্জি রোডটি ছিল দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত বাস রুট। এখান দিয়ে নাকতলা-হাওড়া, হরিনাভি-হাওড়া এবং কালীতলা-হাওড়াগামী একাধিক মিনি বাস চলাচল করত। এছাড়াও ডায়মন্ড হারবারগামী ৭৮এ এবং ডালহৌসিগামী ১৩ নম্বর বাসের যাত্রীরা এই রুট ব্যবহার করতেন। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এই বাস রুটগুলো বন্ধ বা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে পরিবহন সংস্থাগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের যুগ্ম সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন ও বর্তমান পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর কলকাতা পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করেছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও অফিসের সামনে মোতায়েন অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কালীঘাট এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকা থেকে গার্ড রেল ও পুলিশের বাড়তি নজরদারি সরিয়ে নেওয়ায় এলাকায় জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। এই শিথিলতাকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশা করছেন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নজরদারি

নিরাপত্তা ব্যবস্থা উঠে যাওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া বাস রুটগুলো কি পুনরায় চালু করা সম্ভব? পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি রাস্তাটি পুরোপুরি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে, তবে বাস সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় তাদের পুরনো রুটে বাস চালানোর আবেদন জানাতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এলাকাবাসী আপাতত স্বাভাবিক যাতায়াতের স্বাধীনতা ফিরে পেলেও, বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হলে তা কলকাতার সামগ্রিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *