পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে রাজ্য সরকার নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করবে। এই বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব উপস্থিত ছিলেন, যেখানে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের নতুন দিশা
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা তাঁর সরকারের মূল স্তম্ভ। নবান্নের বৈঠকে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন যে, প্রশাসনিক কাজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ‘অনুপ্রেরণা’ বা প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না। কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আইপিএস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও কর্মপরিকল্পনা
রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন আইপিএস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে জেলাশাসকদের সমন্বয় সাধনের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে, যাতে তৃণমূল স্তরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত পৌঁছায়।
মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন ও সুশাসনের বার্তা
এরই মধ্যে নবান্নে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টন করা হয়েছে। দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় পশ্চিমবঙ্গকে একটি সুশাসিত ও নিরাপদ রাজ্যে পরিণত করার সংকল্প নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও প্রত্যাশা
প্রশাসনিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ রাজ্যের আমলাতন্ত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আগামী দিনে আরও কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এই রদবদল এবং নতুন নির্দেশাবলি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।