বলিউডের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর ২’ এখন এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বক্স অফিসে সাফল্যের শিখর ছুঁলেও, এই ছবিটির বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ— সেনাবাহিনীর অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপন তথ্য ফাঁস করার। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে হস্তক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে, যা বিনোদন জগত এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যেকার সূক্ষ্ম ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
‘ধুরন্ধর ২’ ছবির বিরুদ্ধে অভিযোগ: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন
আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর ২’ বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে, যা দেশের বাইরেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে, ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিটির বিরুদ্ধে সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। সশস্ত্র সীমা বলের হেড কনস্টেবল দীপক কুমার এই মামলাটি দায়ের করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে ছবিটি সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য ফাঁস করেছে। তাঁর মতে, এটি দেশের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
অভিযোগের মূল বিষয় হলো, ছবিতে প্রদর্শিত কিছু ঘটনার স্থান, উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিকদের আদলে তৈরি চরিত্র এবং প্রয়াত সামরিক কর্তাদের আদলে তৈরি চরিত্রগুলি এতটাই প্রকট যে তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য গোপনীয়তা রক্ষা আইন লঙ্ঘন করতে পারে। একটি কাল্পনিক গল্পের আড়ালে যদি বাস্তব সামরিক কৌশল বা তথ্যের ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তবে তা দেশের শত্রুদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ: কেন্দ্র ও সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা
মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ারের ডিভিশন বেঞ্চ এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যদিও ছবিটি কাল্পনিক কাহিনি এবং মনোরঞ্জনের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে, তবুও নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মী যখন এই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তখন তা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
আদালত কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং সেন্সর বোর্ডকে (CBFC) এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য গোপনীয়তা রক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল যে,