Headlines

বেহালার তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে আরও ৩টি নতুন মামলা, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বেহালার তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে আরও ৩টি নতুন মামলা, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি Photo by Nifty Highness on Pexels

আবির দত্ত, কলকাতা : গ্রেফতার হওয়া বেহালার তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে এবার আরও তিনটি নতুন মামলা রুজু করেছে পুলিশ। হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, জোর করে টাকা নেওয়া এবং তোলাবাজির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে হরিদেবপুর থানায় এই মামলাগুলি দায়ের হয়েছে। সুদীপ পোল্লে কলকাতার প্রথম তৃণমূল কাউন্সিলর যিনি গ্রেফতার হলেন।

গত ২৩ মে তোলাবাজির অভিযোগে সুদীপ পোল্লেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর আগে ঠাকুরপুকুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তিনি কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর এবং ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান। ২০১০ সাল থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর গ্রেফতারের পর আরও কিছু লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই হরিদেবপুর থানায় নতুন তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধী দলগুলি শাসক দলের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলিকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, একই দিনে তৃণমূলের অন্য এক নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মালবিকা বৈদ্যের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল যুব নেতা তপন বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও তোলাবাজি, জমি জবরদখল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাগুলিকেও গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর থেকেই জেলা এবং শহর জুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়া, সিন্ডিকেট চালানো বা সাধারণ মানুষকে জুলুমবাজি করার মতো অভিযোগ প্রমাণিত হলেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সম্প্রতি উলুবেড়িয়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিরঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর অফিসের সামনে ত্রিপল, বালতি মজুত থাকার অভিযোগ ওঠে। সরকারি প্রকল্পের জিনিস চাইতে গেলে কাউন্সিলর ফিরিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর বাউড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ধরনের ঘটনা শাসক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই গ্রেফতারি এবং অভিযোগগুলি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসন যে কোনও অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, তা এই ঘটনাগুলি থেকে স্পষ্ট। সাধারণ মানুষও এখন তাদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে সাহস পাচ্ছে। আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক দলগুলির উপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *