Headlines

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে বিস্ফোরক উদ্ধার: বেঙ্গালুরুতে ৬ পুলিশকর্মী সাসপেন্ড

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে বিস্ফোরক উদ্ধার: বেঙ্গালুরুতে ৬ পুলিশকর্মী সাসপেন্ড Photo by 112 Uttar Pradesh on Pexels

গত ১০ মে বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাই-প্রোফাইল সফরের আগে তাঁর নির্ধারিত যাত্রাপথের খুব কাছে জিলেটিন স্টিক উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগে রবিবার ছয় পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু দক্ষিণের পুলিশ সুপার এই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এই ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে প্রশাসন।

নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় ফাটল

১০ মে প্রধানমন্ত্রীর কর্ণাটক সফরের আগে রুট ক্লিয়ারেন্স এবং তল্লাশির সময় বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে দুটি জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মূল অনুষ্ঠানস্থল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে কাগালিপুরার একটি আশ্রমের নিকটবর্তী ফুটপাতের পাশে এই বিস্ফোরকগুলো পড়ে থাকতে দেখেন নিরাপত্তা কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন ভিভিআইপি-র সফরের আগে এই ধরনের ঘটনা সরাসরি নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।

ডিআইজি (সেন্ট্রাল রেঞ্জ) জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের ঠিক আগে যখন পুরো এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন এই বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়া চরম গাফিলতির প্রমাণ। ওই এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা কেন আগে এটি শনাক্ত করতে পারেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ছয় পুলিশকর্মীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও বিস্ফোরক রহস্য

পুলিশি তদন্তে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো ছিল বাণিজ্যিক গ্রেডের জিলেটিন স্টিক, যা সাধারণত খনন বা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় রুটের এত কাছে এগুলো কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। ফরেন্সিক দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বাহিনী (BDDS) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষা করে এবং এলাকাটি সিল করে দেয়।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এটি কেবলই কোনো নির্মাণ শ্রমিকের ফেলে যাওয়া বস্তু নাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় গতিবিধি বিশ্লেষণ করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১০ মে সকালে রুট চেকিংয়ের সময় ফুটপাতের ঝোপের আড়ালে এই স্টিকগুলো পড়ে ছিল।

রাজনৈতিক তরজা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্ণাটকের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি এবং বিধায়ক বি ওয়াই বিজয়েন্দ্র ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘ক্ষমার অযোগ্য এবং গুরুতর ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যার ফলে খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাও আজ প্রশ্নের মুখে।

বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় নেতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক নয়। পাল্টাপাল্টি হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের পরিবর্তে তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা প্রটোকল ও বিশেষজ্ঞের মত

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ‘অ্যাডভান্স সিকিউরিটি লিয়াজোঁ’ (ASL) প্রটোকল অনুযায়ী প্রতিটি ইঞ্চি জমি পরীক্ষা করার কথা। স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG) এবং স্থানীয় পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে এই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। উদ্ধার হওয়া জিলেটিন স্টিকগুলো যদি কোনোভাবে সক্রিয় করা হতো, তবে তা বড় ধরনের বিপত্তি ঘটাতে পারত।

তথ্য বলছে, ভারতের ভিভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা ভৌগোলিক পরিবেশ সম্পর্কে বেশি ওয়াকিবহাল। এই ঘটনায় ছয় পুলিশকর্মীর সাসপেনশন বার্তা দিচ্ছে যে, কর্তব্যে সামান্যতম শিথিলতাও বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ এখন ওই এলাকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিস্ফোরক বিক্রেতাদের তালিকা যাচাই করছে যাতে উৎস শনাক্ত করা যায়।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও সতর্কবার্তা

পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর কর্ণাটকে ভিভিআইপি সফরের নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কঠোর করা হচ্ছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে দেখা হবে যে, কোনো সন্ত্রাসী যোগসূত্র আছে কি না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন ওই নির্দিষ্ট এলাকার মোবাইল টাওয়ার ডাম্প ডেটা বিশ্লেষণ করছে যাতে সন্দেহভাজনদের ট্র্যাক করা যায়।

আসন্ন দিনগুলোতে কর্ণাটক পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন নজরদারি এবং মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর কেন্দ্র ও রাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *