গাজ়ার দখলদারি বাড়াতে ইজ়রায়েলের নতুন সামরিক কৌশল
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের সঙ্গে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে কার্যত উপেক্ষা করে, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজ়া স্ট্রিপের ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করার জন্য সেনাবাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে আয়োজিত এক সম্মেলনে নেতানিয়াহু এই ঘোষণা করেন, যা পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলি বাহিনীর এই অগ্রাসন অঞ্চলটিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত বছর অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সময় ইজ়রায়েলি বাহিনী গাজ়ার সীমান্ত এলাকা যা ‘হলুদ রেখা’ নামে পরিচিত, সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। এই রেখাটি গাজ়ার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামাস অভিযোগ তুলেছে যে, ইজ়রায়েলি বাহিনী গোপনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজ়ার অভ্যন্তরে আরও গভীরে প্রবেশ করছে। নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে গাজ়ার ৬০ শতাংশ এলাকা ইজ়রায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সামরিক লক্ষ্য অর্জনে এই পরিসর ৭০ শতাংশে উন্নীত করা অপরিহার্য।
সামরিক কৌশল ও মানবিক বিপর্যয়
ইজ়রায়েলের এই পদক্ষেপে মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত ইজ়রায়েলি সেনার মানচিত্র অনুযায়ী, গাজ়ার ৬৪ শতাংশ এলাকা আগেই তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, দখলদারি ৭০ শতাংশে পৌঁছালে প্রায় ২০ লক্ষ প্যালেস্তিনীয় স্থায়ীভাবে ঘরছাড়া হতে পারেন। ইজ়রায়েলি প্রশাসনের দাবি, হামাসের সামরিক শক্তি চিরতরে নির্মূল করতে এবং ভবিষ্যতে আক্রমণের পথ বন্ধ করতে এই সামরিক চাপ প্রয়োগ করা ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও লেবানন ফ্রন্ট
গাজ়ার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননেও ইজ়রায়েলের সামরিক তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বুধবার ইজ়রায়েল দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তীর্ণ অংশকে ‘কমব্যাট জ়োন’ বা যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। জাহরানি নদীর উত্তরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও ইজ়রায়েল একে হেজবোল্লার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে, তবে কূটনীতিকরা মনে করছেন এটি বৃহত্তর কোনো সামরিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে শান্তি আলোচনার যাবতীয় সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনগুলোতে ইজ়রায়েলি বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বনেতারা এখন এই সংঘাত প্রশমনে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।