দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি আইআইটি দিল্লিতে আয়োজিত একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিষয়ক প্রদর্শনীতে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেন যে, বাবলা এবং ইউক্যালিপটাস গাছ অক্সিজেন সরবরাহ করে না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (AAP) এবং নেটিজেনদের একাংশ তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান
রাজধানী দিল্লিতে বায়ু দূষণ একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত তার বক্তৃতায় দিল্লির রাস্তার পাশে থাকা বাবলা ও ইউক্যালিপটাস গাছগুলিকে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি ছিল, এই গাছগুলি পরিবেশের গ্রিন কভার বা সবুজ আচ্ছাদন বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।
রাজনৈতিক আক্রমণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আম আদমি পার্টি একে এক হাত নিয়েছে। দলের নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ কটাক্ষ করে বলেন, যে সরকার দূষণ কমানোর দাবি করে, তাদের প্রধানই যদি গাছের অক্সিজেন উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে এমন ভুল তথ্য দেন, তবে তা উদ্বেগজনক। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, জনসমক্ষে এমন অবৈজ্ঞানিক বক্তব্য দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির জন্য মানানসই নয়।
বিজ্ঞান কী বলছে?
উদ্ভিদবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত সবুজ উদ্ভিদই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাবলা বা ইউক্যালিপটাস গাছ অক্সিজেন দেয় না—এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। যদিও ইউক্যালিপটাস গাছ অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল শোষণ করে নেওয়ার জন্য সমালোচিত হয়, তবে অক্সিজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা অন্যান্য গাছের মতোই স্বাভাবিক।
শিল্প ও জনজীবনে প্রভাব
এই বিতর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। দিল্লির মতো দূষিত শহরে সঠিক বনায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যদি পরিবেশ নীতি নির্ধারণ করা হয়, তবে তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে শহরের ইকোসিস্টেমের ওপর। সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশবিদরা এখন চাইছেন, সরকার বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের পরিবেশ পরিকল্পনা গ্রহণ করুক।
সামনের দিনগুলিতে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয়। পরিবেশ নিয়ে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার কি কোনো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেবে, নাকি এই অবৈজ্ঞানিক দাবি নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে—সেদিকেই নজর থাকবে পরিবেশপ্রেমী ও রাজনীতির কারবারিদের।