Headlines

ফিলিপিন্সের আগ্নেয়গিরিতে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য: লাভা ও উল্কার যুগলবন্দি

ফিলিপিন্সের আগ্নেয়গিরিতে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য: লাভা ও উল্কার যুগলবন্দি Photo by Luis D. Alvarez on Pexels

ফিলিপিন্সের সক্রিয় মাউন্ট মায়োন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় আকাশ থেকে আছড়ে পড়া এক উজ্জ্বল সবুজ উল্কাপিণ্ডের বিস্ফোরণ বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত রবিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিট নাগাদ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে লাভা নির্গমনের ঠিক পটভূমিতেই এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পর্যবেক্ষণ

মাউন্ট মায়োন ফিলিপিন্সের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা নিয়মিতভাবে গলিত শিলা এবং বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে। বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরিটির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর জন্য ওয়েবক্যাম ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমেই এই চাঞ্চল্যকর ফুটেজটি সংগৃহীত হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, আগ্নেয়গিরির অগ্নিকুণ্ডের উজ্জ্বল কমলা আভা এবং গলিত লাভার স্রোতের মাঝে হঠাৎই এক তীব্র সবুজ আলোর ঝলকানি পুরো আকাশকে আলোকিত করে তোলে।

উল্কা বনাম মহাজাগতিক রহস্য

প্রাথমিক বিশ্লেষণে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি উল্কাপিণ্ডের বায়ুমণ্ডলীয় বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন। যখন কোনো গ্রহাণু বা ধূমকেতুর ক্ষুদ্র অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রবেশ করে, তখন বায়ুর ঘর্ষণে সেটি উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে এবং আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়। উল্কাপিণ্ডের রাসায়নিক উপাদানের ওপর ভিত্তি করে এই আলোর রঙ বিভিন্ন হতে পারে, যেখানে সবুজ আভা সাধারণত ম্যাগনেসিয়াম বা নিকেলের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি

বিশেষজ্ঞদের মতে, উল্কাপিণ্ডটি সরাসরি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে আঘাত করেনি, বরং এটি বায়ুমণ্ডলেই বিস্ফোরিত হয়ে ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। আগ্নেয়গিরির পটভূমিতে ঘটনাটি ঘটায় দূর থেকে পর্যবেক্ষকদের মনে হয়েছে এটি পর্বতের ওপর আছড়ে পড়েছে। মায়োন আগ্নেয়গিরির লাভার তাপমাত্রা প্রায় ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও, উল্কাপিণ্ডের বায়ুমণ্ডলীয় বিস্ফোরণ মুহূর্তের জন্য কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম, যা লাভার ঔজ্জ্বল্যকেও ম্লান করে দেয়।

ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব

এই বিরল ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এখন মহাকাশ গবেষণার নতুন খোরাক জুগিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন ঘটনাটির সঠিক গতিপথ এবং উল্কাটির উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব। মহাকাশ থেকে নেমে আসা এই আগুনের গোলার রহস্য উদ্ঘাটনে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আরও গবেষণামূলক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *