Headlines

নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়

নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় Photo by Sandeep Kashyap on Pexels

উত্তর ২৪ পরগনার নিমতায় দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়ে স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন। সোমবার নিমতা থানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় একদল বিক্ষোভকারী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে তর্জা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত কয়েকদিন ধরেই নিমতা ও বিশরপাড়া এলাকায় তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই সৌগত রায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিমতা থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছিলেন। সাংসদের দাবি, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে আইসির সাথে আলোচনা শেষ করে যখন থানা থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখনই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সাংসদের বয়ান ও প্রশাসনের ভূমিকা

পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সৌগত রায় জানান, থানা থেকে বেরোনোর সময় কয়েকজন যুবক অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে এবং তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। তিনি সরাসরি এই ঘটনার জন্য স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দায়ী করেছেন। সাংসদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা বা আইসি বিক্ষোভকারীদের থামাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, একদিকে বিজেপি নেতারা যখন মার্জিত ভাষার কথা বলেন, অন্যদিকে তাদেরই কর্মীরা রাস্তায় নেমে অশ্লীল আচরণ করছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির পক্ষ থেকে নিশীথ প্রামাণিক জানান, ব্যক্তিগত আক্রমণ কাম্য নয়, তবে তৃণমূলের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। তিনি উভয় পক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও প্রভাব

নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই প্রবীণ সাংসদের এমন হেনস্থা হওয়াকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দুর্বলতা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। একইসাথে বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়িতে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও এই বিক্ষোভের ঘটনা রাজ্যের শাসকদলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে সংকটের মুখে ফেলেছে। আগামী দিনে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় ক্ষোভ প্রশমনে তৃণমূল নেতৃত্ব কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করে, তা এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *