Headlines

ED-র ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ সুজিত বোস

ED-র ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ সুজিত বোস Photo by Michael D Beckwith on Pexels

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং দক্ষিণ দমদমের প্রভাবশালী নেতা সুজিত বোস এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র তদন্ত প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা এবং তাকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সুজিত বোসের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ইডি তার বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

পুর নিয়োগ দুর্নীতি ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট

২০১০ সাল থেকে সুজিত বোস দীর্ঘ সময় দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিবিআই-এর পেশ করা চার্জশিটের ১১ নম্বর পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পরবর্তী সময়ে অর্থের বিনিময়ে সেখানে ৩২৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

ইডি-র চাঞ্চল্যকর দাবি

তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র দাবি, সুজিত বোসের সরাসরি সুপারিশে বিভিন্ন পদে অন্তত ১৫০ জনের চাকরি হয়েছে। শুধু নগদ অর্থ নয়, চাকরির বিনিময়ে জমি হস্তান্তরের মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে। আদালতের সামনে ইডি-র আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নিয়োগ দুর্নীতির এই জাল অত্যন্ত বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে সুজিত বোসের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের অস্বচ্ছতা

ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, করোনা অতিমারি এবং লকডাউনের কঠিন সময়েও সুজিত বোস এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়েছে। ইডি-র তথ্য অনুযায়ী, লকডাউনের সময় সুজিত বোসের নিজস্ব চাইনিজ রেস্তোরাঁ ও তার ছেলের বেঙ্গল ধাবা রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অথচ সেই সময়ে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে রেস্তোরাঁগুলি বন্ধ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক প্রভাব

লকডাউনের সময় রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা এবং ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা নগদে জমা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইডি প্রশ্ন তুলেছে। সুজিত বোস এই সমস্ত আর্থিক লেনদেনের কোনো বৈধ উৎস বা নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে ইডি দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ তুলে সুজিত বোস আইনি সুরক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও পর্যবেক্ষণ

আগামী দিনে এই মামলার শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আদালত ইডি-র পেশ করা তথ্যের ভিত্তিতে কী পর্যবেক্ষণ দেয় এবং সুজিত বোসের আইনি চ্যালেঞ্জ কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই আইনি লড়াই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *