পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগামী জুন মাস থেকে রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা কার্যকর করতে চলেছে, যার লক্ষ্য হলো সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে অযোগ্য বা ‘বেনোজল’ অংশ বাদ দেওয়া। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের ১২ পাতার একটি বিস্তারিত ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, যা বুধবার রাতে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে এবং শুক্রবার থেকে অফলাইনেও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা
রাজ্য সরকারের দাবি, আগের তালিকায় অনেক অযোগ্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতেই এই নতুন যাচাইকরণ পদ্ধতি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে এর জন্য আবেদনকারীদের পরিবার ও আর্থিক অবস্থা সংক্রান্ত অত্যন্ত খুঁটিনাটি তথ্য প্রদান করতে হবে।
ফর্মের খুঁটিনাটি ও জনমত
১২ পাতার এই ফর্মে আবেদনকারীকে পরিবারের মাসিক রেশন, পাকা বাড়ির সংখ্যা, জমির পরিমাণ, চারচাকা গাড়ির মালিকানা, স্বাস্থ্যবিমা এবং কর্মসংস্থানের মতো ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হচ্ছে। যাদবপুরের বাসিন্দা তনুশ্রী কর্মকারের মতে, প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজনীয় এবং যাদের প্রকৃত প্রয়োজন তারা এটি পূরণ করতে দ্বিধা করবেন না। অন্যদিকে, সন্তোষপুরের বাসিন্দা রুমা দাসের মতো অনেকে বাড়ির দলিল বা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও নতুন নিয়মাবলী
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, যারা বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, তাদেরও নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে হবে। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, তালিকায় থাকা ভুয়া উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই কঠোর যাচাইকরণ। আয়কর দাতা বা ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তবে সিএএ (CAA) আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকায় কতজন নতুন উপভোক্তা জায়গা করে নিতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। ফর্ম পূরণের জটিলতা এবং তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিলেও, সরকার তার স্বচ্ছতার অবস্থানে অনড়। আগামী দিনগুলোতে ভেরিফিকেশন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশই হবে এই প্রকল্পের সাফল্যের আসল সূচক।