Headlines

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: কাউন্সিলরদের ইস্তফা ও কল্যাণের নিশানায় অভিষেক

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: কাউন্সিলরদের ইস্তফা ও কল্যাণের নিশানায় অভিষেক Photo by Mikhail Nilov on Pexels

তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অস্থিরতা

কলকাতা পুরসভার একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগ এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অরূপ চক্রবর্তী ও সুশান্ত ঘোষের মতো হেভিওয়েট কাউন্সিলরদের ইস্তফা এবং বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তোলার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

পটভূমি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি

কলকাতা পুরসভার অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি চলছিল, যা সম্প্রতি কাউন্সিলরদের ইস্তফাপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে সুশান্ত ঘোষের ইস্তফা এবং অরূপ চক্রবর্তীর পরপর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’, যা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা

এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন। একটি জনসভায় বা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে অভিষেকের কার্যপদ্ধতিই মূল কারণ। একইসঙ্গে নারদ মামলায় অভিযুক্ত কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি, যা দলের বিভিন্ন শিবিরের মধ্যে দূরত্বের ইঙ্গিত দেয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কর্তৃত্বের লড়াইয়ের প্রতিফলন। একাধিক ডাটা পয়েন্ট ও পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধিরা দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেদের সামঞ্জস্য রাখতে পারছেন না। বিশেষ করে, পুরসভার কর্মপদ্ধতি নিয়ে কাউন্সিলরদের মধ্যে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ভবিষ্যতের প্রভাব ও দেখার বিষয়

তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ভাঙন রুখতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এছাড়া, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কাছে কতটা গুরুত্ব পায় এবং অভিষেকের অনুগামীরা এর কী জবাব দেন, তা আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *