Headlines

কলকাতা পুলিশ ও ক্রীড়া সংস্থায় ‘থ্রেট কালচার’: শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

কলকাতা পুলিশ ও ক্রীড়া সংস্থায় 'থ্রেট কালচার': শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ Photo by RDNE Stock project on Pexels

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং ক্রীড়া সংগঠক বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ‘থ্রেট কালচার’ চালানোর গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্যালকাটা পুলিশ সার্জেন্টস ইন্সটিটিউটে প্রভাব খাটানোর নতুন অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম লঙ্ঘন করে একাধিক পদ আঁকড়ে থাকার অভিযোগে কাঠগড়ায় উঠেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় ও মন্ত্রী সুজিত বসু।

সার্জেন্টস ইন্সটিটিউটে ক্ষমতার দাপট

ইডি-র হাতে গ্রেফতার হওয়া শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ক্যালকাটা পুলিশ সার্জেন্টস ইন্সটিটিউটের সাধারণ নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সাধারণ সদস্যদের দাবি, নির্বাচনের কথা তুললেই তাদের দূরবর্তী স্থানে বদলির হুমকি দেওয়া হতো। এই স্বেচ্ছাচারী আচরণের ফলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

ক্রীড়াঙ্গনেও রাজনৈতিক প্রভাব

শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রভাব শুধুমাত্র পুলিশি প্রশাসনে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরাশিস লাহিড়ির অভিযোগ অনুযায়ী, সিএবি-র কোচিং প্যানেল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার নেপথ্যে ছিল শান্তনুর সুপারিশ না মানার জেদ। ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থায় নিয়োগ ও অপসারণের এই সংস্কৃতি রাজ্য ক্রীড়া মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের নির্দেশে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস জেল হেফাজতে রয়েছেন।

পদ আঁকড়ে থাকার বিতর্ক

অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (IOA) ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিদ্ধ বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুজিত বসু। বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে খবর, বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন ও টেবিল টেনিস সংস্থাসহ একাধিক পদে আসীন রয়েছেন। একইভাবে, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু রাজ্য জুডো অ্যাসোসিয়েশন ও হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট পদে বহাল আছেন। এই নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই তাদের চিঠি পাঠিয়েছে।

প্রশাসনের ওপর প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও ক্রীড়া সংস্থায় এই ধরনের ‘থ্রেট কালচার’ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে নষ্ট করে। যখন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন বা সাংগঠনিক নিয়মকে উপেক্ষা করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে টিকে থাকেন, তখন সাধারণ কর্মীরা বা ক্রীড়াবিদরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইন্সটিটিউটের নির্বাচন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে কি না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তা এখন দেখার বিষয়। এছাড়া, ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে আইওএ-র নিয়মাবলী কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *