Headlines

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয়ে নতুন চাপ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয়ে নতুন চাপ Photo by Erik Mclean on Pexels

বাংলাদেশ সরকার জুন মাসের জন্য বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোক্তাপর্যায়ে অকটেন, পেট্রোল এবং কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এই পদক্ষেপ সাধারণ জনগণের উপর নতুন আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত সপ্তাহে এই নতুন মূল্য ঘোষণা করে, যেখানে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ সাধারণত একটি মাসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল। সরকার গত বছর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অভ্যন্তরীণ তেলের দাম সমন্বয়ের নীতি গ্রহণ করেছে। এর আগে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে আসছিল, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল।

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম, যেমন ব্রেন্ট ক্রুড, প্রায়শই প্রতি ব্যারেল ৮০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয় বাজারে দাম অপরিবর্তিত রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

সরকার জানিয়েছে, ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে এই সমন্বয় করা হচ্ছে। এটি ভর্তুকির বোঝা কমানো এবং দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা।

বিশদ বিবরণ ও প্রভাব

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২৯ টাকা, পেট্রোলের দাম ১২২ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১০৯ টাকা থেকে বেড়ে ১১১ টাকা হয়েছে। ডিজেলের দাম পূর্বের ১০৯ টাকা প্রতি লিটারেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা পরিবহন খাতের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে।

এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন খাতে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে যেখানে অকটেন ও পেট্রোল ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং রাইড-শেয়ারিং সার্ভিসের খরচ বাড়বে। যদিও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় বাস ও ট্রাকের ভাড়া আপাতত না বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে পরোক্ষ প্রভাব এড়ানো কঠিন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে কৃষিখাতেও এর প্রভাব পড়ে। সেচ পাম্পে ডিজেল ব্যবহৃত হলেও, অন্যান্য যন্ত্রপাতির পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ির খরচ বাড়লে সামগ্রিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও তথ্য

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে,

One thought on “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয়ে নতুন চাপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *