প্রাক্তন বিচারপতি শাশুড়ি গিরিবালা সিংহকে মডেল ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। ৩৩ বছর বয়সী ত্বিষার মৃত্যুতে পণের জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে গিরিবালার বিরুদ্ধে। এর আগে তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।
গত ১২ মে ভোপালের শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিষার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ দায়রা আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট সেই জামিন বাতিল করে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে CBI-এর একটি তিন সদস্যের দল গিরিবালার বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।
মামলাটির তদন্তভার হাতে নেওয়ার পরই CBI ভোপালে একটি ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য জায়গারও অনুরোধ করেছে।
ত্বিষার আইনজীবীর দাবি, গিরিবালা প্রমাণ লোপাটে যুক্ত ছিলেন। তিনি ত্বিষাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছিলেন না বা বাড়ি থেকে বেরোতেও দিচ্ছিলেন না। কার্যত তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ার পর ১৮ মে এক সাংবাদিক বৈঠক করে গিরিবালা মৃত ত্বিষাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
CBI আদালতে জানিয়েছে, ত্বিষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাঁর হাতে ও কনুইয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে জানা যায়, ত্বিষা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর চরিত্র নিয়ে সন্দিহান ছিলেন গিরিবালা এবং তাঁর ছেলে সমর্থ সিংহ। ত্বিষার গর্ভের সন্তান যে তাঁদের নয়, এমন অভিযোগও তোলা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ত্বিষাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়েছিল।
ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর বিদায় নেওয়ার সময়েও গিরিবালা টাকা চেয়েছিলেন। পরবর্তীতেও তিনি ত্বিষাকে নানা খোঁটা দিতেন। তাঁদের দাবি, বিয়ের অনুষ্ঠান তাঁদের ‘স্ট্যান্ডার্ড’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য ত্বিষার উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হতো। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাঁকে খুনের অভিযোগও আনা হয়েছে। যদিও গিরিবালা এবং তাঁর পরিবারের লোকজন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে গিরিবালার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮০ (২) (পণের দরুণ মৃত্যু), ৮৫ (শ্বশুরবাড়ির লোকজন বা স্বামীর দ্বারা নির্যাতন) এবং ৩ (৫) (একই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে একাধিক জন মিলে অপরাধ ঘটানো) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও, ১৯৬১ সালের পণ বিরোধী আইনের ৩ এবং ৪ নম্বর ধারাতেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও সমাজে পণ প্রথার ভয়াবহ দিকটি তুলে ধরেছে। আইন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং ত্বিষার পরিবার ন্যায়বিচার পায় কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।