কলকাতা: বজবজের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মিঠুন টিকাদারকে খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক মামলায় অসম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। বজবজ থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন।
রাজ্যজুড়ে দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা অব্যাহত। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজ কলেজে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী। অন্যদিকে, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক নমিতা সাহার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাগুলি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
প্রতারণা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বজবজের তৃণমূল কাউন্সিলর মিঠুন টিকাদারের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অসম পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বজবজ থানায় নিয়ে আসার পর আদালত চত্বরে স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে ঘিরে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা
পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজ কলেজে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁর ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন যে তিলক চক্রবর্তী চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিলেও পরে চাকরিও হয়নি, টাকাও ফেরত মেলেনি। এই ঘটনায় কিছুদিন আগে তিলক চক্রবর্তীর এক ঘনিষ্ঠকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জানা গেছে, তিলক চক্রবর্তী ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন।
ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক নমিতা সাহার ভাই রবিন সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে মগরাহাট থানার পুলিশ। তিনি মগরাহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। অভিযোগ, বুধবার নমিতা সাহার পৈতৃক বাড়ি থেকে গাড়ি ভর্তি ত্রিপল অন্যত্র পাচার করার চেষ্টা চলছিল। এই বাড়িতেই রবিন সাহা থাকতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা হাতেনাতে ধরে ফেলায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশ রবিন সাহাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থলে মগরাহাটের বিডিও-ও উপস্থিত হন।
পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা
মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। এরপর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসন এই বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে। শহর থেকে জেলা, একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বুধবার বর্ধমান দক্ষিণেও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। এই গ্রেপ্তারিগুলি রাজ্যের প্রশাসনিক সক্রিয়তার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত
এই গ্রেপ্তারিগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির উপর নজরদারি বাড়বে এবং দুর্নীতির অভিযোগগুলি আরও তীব্রভাবে সামনে আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ প্রশাসনিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছেন।