কলকাতা: প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসকে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিউ আলিপুরে তাঁকে আটক করার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
গ্রেফতারের পর জনরোষ
মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ নিউ আলিপুর থেকে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রথমে তাঁকে নিউ আলিপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
থানা থেকে বের করার সময় স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘চোর চোর’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে অতিরিক্ত তৎপর হতে হয়।
জনগণের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে, পুলিশ স্বরূপ বিশ্বাসকে আর নিউ আলিপুর থানায় ফিরিয়ে আনা নিরাপদ মনে করেনি। তাই, রাতারাতি তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।
অভিযোগের পাহাড়
স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এলাকায় তোলাবাজি চক্র চালাতেন। এমনকি, সাধারণ মানুষ নিজের বাড়ির দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণ করতে গেলেও তাঁকে ‘কাটমানি’ দিতে হত বলে অভিযোগ।
এক মহিলা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে স্বরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠরা মারধর করেছে। এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের ঘটনা রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর আগে সোনারপুরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকেও লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়েছিল।
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের পর নিউ আলিপুর থানার সামনে অনেকে ডিম নিয়ে হাজির হন। তাঁদের মতে, ‘নোংরা মানুষের জন্য ভালো ডিম এনেছি, এটা উপহার।’ এই ঘটনায় তৃণমূলের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভবিষ্যতের দিকে
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতার এবং তার পরবর্তী জনরোষ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে শুদ্ধিকরণের প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরেছে। আগামী দিনে এই ঘটনা তৃণমূলের ভাবমূর্তির উপর কী প্রভাব ফেলে, এবং দল এই পরিস্থিতি থেকে কী শিক্ষা নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।