কলকাতা: তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাঁর পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং ফিক্সড ডিপোজিট ও নগদ মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর একটি গাড়ি এবং আরও পাঁচটি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সব্যসাচী দত্তকে আজ আদালতে পেশ করে আরও ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাবে পুলিশ।
গত ৮ জুন ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই জেরাতেই তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ মেলে। বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি যে সাদা রঙের স্করপিও গাড়িটি ব্যবহার করতেন, সেটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত রবিবার থেকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সব্যসাচী দত্তকে।
রবিবার বিকেল নাগাদ বিধাননগর নর্থ থানার পুলিশ সব্যসাচী দত্তকে তাঁর রাজারহাটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে সেখানে। প্রথমে ৭ তলার ফ্ল্যাটে এবং পরে ১৩ তলার ফ্ল্যাটে তাঁকে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হয়।
রবিবার সকালেও পুলিশ তাঁকে নিয়ে বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে যায়। সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। এরপর পুলিশ সব্যসাচী দত্তকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি, গাইঘাটার উত্তর বাগনাানেও নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালায়। গ্রেফতারের পর থেকেই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, তোলাবাজির টাকা না পেলে তিনি ভয়ঙ্কর অত্যাচার চালাতেন।
পুলিশের দাবি, সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সব্যসাচী দত্তের হেফাজত বৃদ্ধির আবেদন করে পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার জন্য এই হেফাজত জরুরি।
এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, আইন নিজের পথে চলবে এবং দল কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আর্থিক প্রতারণা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও, রাজনৈতিক নেতাদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য আরও কড়া নজরদারি এবং আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে। সব্যসাচী দত্তর তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।