অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে।
একটি দীর্ঘ এক্স (X) পোস্টে, শর্মা দাবি করেছেন যে ভারতের সামরিক বিজয় ঐতিহাসিক হলেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কৌশলগত সুবিধা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি ইন্দিরা গান্ধী আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে জাতি তাঁকে প্রশ্ন করত যে তিনি আমাদের সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক বিজয়কে কীভাবে পরিচালনা করেছিলেন।”
শর্মা উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন যে বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা ২০% থেকে কমে ৮%-এর নিচে নেমে এসেছে, যা ধর্মীয় বৈষম্য ও সহিংসতার ফল।
তিনি সিলিগুড়ি করিডোরের (Chicken’s Neck) কৌশলগত দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শর্মার মতে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে একটি স্থল করিডোর তৈরি করা গেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল আরও ভালোভাবে সংযুক্ত হতে পারত।
এই মন্তব্যগুলি ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এসেছে, যেখানে কংগ্রেস নেতারা ইন্দিরা গান্ধীর ১৯৭১ সালের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।
শর্মার বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিজেপি নেতারা তাঁর মতামতকে সমর্থন করছেন, আর কংগ্রেস নেতারা গান্ধীর কৌশলগত সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন।
এই বিতর্ক ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
