পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে। একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপে তাঁকে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে অপমানজনক ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং তাঁকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেয়।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিজেপি নেতারা সামাজিক মাধ্যমে একটি ৪ মিনিটের অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন, যেখানে অনুব্রত মণ্ডলকে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দিতে শোনা যায়। এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পরই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেয় এবং দ্রুত ক্ষমা চাইতে বলে।
অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষমা প্রার্থনা
তৃণমূলের নির্দেশের পর ৪০ মিনিটের মধ্যেই অনুব্রত মণ্ডল ক্ষমা চেয়ে একটি চিঠি লেখেন এবং বলেন, “আমি দিদির পুলিশকে একশোবার ক্ষমা চাইতে পারি। আমি সত্যিই দুঃখিত”। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি কীভাবে আমার ও আইসির কথোপকথনের অডিও পেল? এর পেছনে কি কোনো ষড়যন্ত্র আছে?”।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “এই অডিও শুনলেই বোঝা যায়, পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে দুষ্কৃতীদের রক্ষা করা হচ্ছে”। বিজেপি দাবি করেছে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে প্রশাসন কতটা চাপে রয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ
বীরভূম জেলা পুলিশ অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিএনএস ২২৪, ১৩২, ৭৫ এবং ৩৫১ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে ১৩২ ধারা জামিন অযোগ্য বলে জানা গেছে।
উপসংহার
এই বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিজেপির তীব্র সমালোচনা—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? মন্তব্য করে জানান!
