গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হওয়া অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় নিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি এখন ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে অত্যাধুনিক ‘টানেল ভিউ’ ম্যাপিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মৃত্যুর আগের শেষ কয়েক ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্তের ডিজিটাল পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও পরিবারের অভিযোগ
গত ডিসেম্বরে আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ত্বিশা শর্মা। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই মানসিক নির্যাতন ও পণের দাবিতে শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন তার পরিবার। ত্বিশার মায়ের দাবি, মৃত্যুর আগে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে তিনি তার দমবন্ধকর পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পুলিশ এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখলেও, পরিবারের অভিযোগ তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা এবং গাফিলতির কারণে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়।
সিবিআইয়ের তদন্ত কৌশল: টানেল ভিউ ম্যাপিং
তদন্তভার গ্রহণের পর সিবিআই নতুন করে এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে হেফাজতে নিয়েছে। মামলার রহস্যভেদে সিবিআই এখন ‘টানেল ভিউ’ ম্যাপিংয়ের সাহায্য নিচ্ছে। এই পদ্ধতিতে সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), ওয়াই-ফাই লগ এবং ডিজিটাল অ্যাক্টিভিটি বিশ্লেষণ করে একটি নির্ভুল টাইমলাইন তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি অপরাধের জায়গাটির ডিজিটাল রিকনস্ট্রাকশন করতে সক্ষম। বাড়ির প্রতিটি তলার ফরেন্সিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি এবং বয়ানের অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে নিখোঁজ বেল্ট এবং আঘাতের চিহ্নের অমিলগুলো এখন এই ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হচ্ছে।
আইনি পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা
সম্প্রতি জবলপুর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর গিরিবালা সিংকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রায় ১০ দিন পলাতক থাকার পর ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিং আত্মসমর্পণ করেন। তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে ডিজিটাল প্রমাণের ফারাকই এখন মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও করণীয়
এই মামলার তদন্তের ফলাফল শুধুমাত্র ত্বিশার ন্যায়বিচারের জন্যই নয়, বরং ডিজিটাল ফরেন্সিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সিবিআইয়ের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে উচ্চ-প্রোফাইল মামলার তদন্তে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ডিজিটাল টাইমলাইন এবং ফরেন্সিক ম্যাপিংয়ের এই তথ্যের ভিত্তিতে আদালত কী রায় দেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিটে কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।