Headlines

অভিষেককে জেলে পাঠানো উচিত, মমতাকে ধৃতরাষ্ট্র বললেন হুমায়ুন কবীর

অভিষেককে জেলে পাঠানো উচিত, মমতাকে ধৃতরাষ্ট্র বললেন হুমায়ুন কবীর Photo by Voters Party International on Pexels

কলকাতা: আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলেন এবং তাঁর এই আচরণ ছিল অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবিপি আনন্দে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে, ভাইকে বেশি, অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বানানোয় মুগ্ধ ছিল। আমাদের কোনও কথা শোনেনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি প্রতিবাদী বরাবর। যে দলই করেছি, ৩০ বছর কংগ্রেস করেছি। কংগ্রেসের ভুল-ত্রুটিও সামনে বলেছি, তৃণমূলেও বলেছি। তখন আমাদের কথায় কোনও কর্ণপাত করেনি। আজ তার খেসারত দিচ্ছে। নিজে দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার। গ্রেফতার করে ওড়িশায় পাঠিয়ে দেওয়া দরকার।”

হুমায়ুন কবীর মমতাকে বিধানসভায় আসার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তাঁর মতে, “আজকের দিনে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢোকা বা থাকাটা আবশ্যক ছিল। তাঁর থাকা উচিত।” তিনি বলেন, “সেক্ষেত্রে মমতা যদি বিধানসভায় আসতে চান এই বয়সে, তাহলে আমি বলতে পারি, নন্দীগ্রামে তিনি পারবেন না। রেজিনগরে হুমায়ুন কবীর শেষ কথা বলে। তৃণমূলকে আমি ৮১০০০ ভোটে হারিয়েছি, বিজেপি-কে ৫৯০০০ ভোটে। ওই আসনে আমি আবার নির্দ্বিধায় মানুষের সমর্থনে জিতে আসব। নেত্রী যদি চান, তাঁর প্রতি আমার যে দুর্বলতা…তিনি যদি নিজে থেকে আমাকে ডেকে বলেন আমাকে বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ করে দাও, সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই বিধানসভায় ঢোকার ব্যবস্থা করে দেব।”

উল্লেখ্য, একসময় হুমায়ুন কবীরকে রাজ্যের মন্ত্রী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেটা বলতে পারেন নিশ্চয়ই। তিনি আমার সিনিয়র মোস্ট, গোটা রাজ্যের নেত্রী নন, বাংলার নেত্রী নন, ভারতের একজন উল্লেখযোগ্য নেত্রী। তাঁর এই সময় বিধানসভায় আসা জরুরি ছিল।” তিনি আরও বলেন, “তিনি ভবানীপুরে হেরে গিয়েছেন। মানুষ হারিয়ে দিয়েছেন। তিনি আসতে চান যদি, আমাকে ব্যক্তিগত স্তরে হুমায়ুন কবীর অবশ্যই ব্যাপারটা…।” মমতাকে জেতানোর ব্যাপারে হুমায়ুন কবীর নিশ্চিত বলে জানান।

এই বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি ঘটেছে। মাত্র ৮০টি আসনে জয়লাভ করলেও, দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের কারণে সেই সংখ্যাও কমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিজয়ী বিধায়ক নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, সত্তরোর্ধ্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের লড়াইয়ে নামতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এর আগে দলবিরোধী কাজের জন্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয় হুমায়ুন কবীরকে। এরপর তিনি নিজের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন। তিনি দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। নওদার আসনটি রেখে দিয়ে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *