Headlines

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কলকাতা পুলিশের অভিযান: বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে তল্লাশি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কলকাতা পুলিশের অভিযান: বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে তল্লাশি Photo by cottonbro studio on Pexels

কলকাতা পুলিশের একটি দল আজ, বুধবার, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কলকাতা পুরসভার নোটিসের পর এই অভিযান চালানো হয়। 188A হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িতে সাদা পোশাকে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা প্রবেশ করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল কিছু সরঞ্জাম, যা একটি ব্যাগে বহন করা হচ্ছিল। বাড়ির বাইরে দরজার কাছে উর্দিধারী পুলিশও মোতায়েন ছিল।

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় কলকাতা পুরসভার পাঠানো একটি নোটিসের মাধ্যমে। পুরসভার তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর দুটি বাড়ি, হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাট রোডের বাড়ি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। নোটিসে প্রশ্ন করা হয় যে, এই বাড়িগুলিতে কোনও বেআইনি নির্মাণ হয়েছে কিনা বা অতিরিক্ত নির্মাণের জন্য পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা। পুরসভা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, বেআইনি নির্মাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনে তা ভেঙে দেওয়া হবে।

পুরসভার এই নোটিসের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে ১০ দিনের সময় চেয়েছিলেন। এই আব es ায় কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। সাধারণত, এই বাড়ির বাইরে উর্দিধারী পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও, আজকের তল্লাশিতে সাদা পোশাকে আধিকারিকদের দেখা যায়। উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করা হয়েছিল এবং তাঁর কনভয়েও কাটছাঁট করা হয়েছিল।

কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ এবং অ্যাসেসমেন্ট ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই নোটিস পাঠায়। শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং আত্মীয় লতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও ১৭ জনের নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই নোটিসগুলিতে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ছিলেন। তাঁদের বের হওয়ার সময় এক আধিকারিকের হাতে একটি মনিটর দেখা যায়, যা তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ আধিকারিকরা কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁরা গাড়ি করে মনিটরটি নিয়ে বেরিয়ে যান।

এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলি এটিকে শাসকদলের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বিষয়টিকে পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী একটি রুটিন প্রক্রিয়া বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই তল্লাশির ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের। পুরসভার নিয়ম বলবৎ করার প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ – এই দুইয়ের টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *