অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে সিআইডি
বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজনে শনিবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ পৌঁছালেন সিআইডি আধিকারিকরা। কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের এই ঠিকানায় পাঁচ সদস্যের একটি গোয়েন্দা দল উপস্থিত হলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে। সিআইডি আধিকারিকদের আগমনের খবর পেয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও সই জালিয়াতির অভিযোগ
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত নথি। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি প্রস্তাবের সই জাল করা হয়েছে। হেয়ার স্ট্রিট থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সিআইডি তদন্তভার গ্রহণ করে এবং হ্যান্ড রাইটিং বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও সিআইডির তৎপরতা
বিধানসভার বিধায়ক না হওয়া সত্ত্বেও কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি নোটিস দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তথ্যানুসারে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার সময় যে ৭০ জন বিধায়ক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার মধ্যে সাংসদ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সইও ছিল। তদন্তকারীদের মতে, এই নথির সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করা জরুরি।
কর্মীদের বয়ান ও বর্তমান পরিস্থিতি
অভিষেকের বাসভবনের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, গত কয়েকদিন ধরে তিনি বাড়িতে আসেননি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। সিআইডি আধিকারিকরা বাড়ির বাইরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও কোনো সদর্থক উত্তর মেলেনি। এর আগেও পুরসভার নোটিস এবং বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পর্যবেক্ষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিআইডি-র এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদলের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই নোটিসের প্রেক্ষিতে কী ভূমিকা গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আইনানুগ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সংঘাতের এই যুগলবন্দি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।