বুধবার, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে তলব করা সত্ত্বেও তিনি গরহাজির থাকায়। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দেননি। এই ঘটনায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে CID-র একটি দল পৌঁছায়।
ঘটনাচক্রে, ভবানীভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতি শাসক-বিরোধী তরজা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘শরীর তাড়াতাড়ি ভাল হোক। ঈশ্বরের কাছে কামনা করছি, উনি সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘মাঠে থাকুন, বিরোধীতা করুন, সমালোচনা করুন। বিরোধী নেতার ভূমিকা পালন করুন।’ শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন বার্তা বহন করছে।
অন্যদিকে, বিধানসভা স্বাক্ষর জালিয়াতি কাণ্ডে CID-র তৎপরতাও লক্ষ্যণীয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে CID-র এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই জালিয়াতি কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং CID-র এই পদক্ষেপ সেই তদন্তের একটি অংশ।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি এবং CID-র পদক্ষেপ উভয়ই আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে।
ঘটনাটি শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সর্বদা আলোচনা চলে।
আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ‘কাউকে ছাড়ব না’ বলে SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত পুরুষদের সম্পর্কে। এই মন্তব্যটিও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই ঘটনাপ্রবাহের উপর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয়।