Headlines

অসুস্থতা উপেক্ষা করে প্রচারে দেব: কেন এত মরিয়া ঘাটালের সাংসদ?

অসুস্থতা উপেক্ষা করে প্রচারে দেব: কেন এত মরিয়া ঘাটালের সাংসদ? Photo by Edmond Dantès on Pexels

নির্বাচনী মরসুমে উত্তপ্ত বাংলা। একদিকে কাঠফাটা রোদ, অন্যদিকে ভোটের ময়দানে জয় নিশ্চিত করার প্রবল চাপ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘাটালের বর্তমান সাংসদ তথা তারকা প্রার্থী দেবের শারীরিক অসুস্থতার খবর শিরোনামে উঠে এসেছে। টানা প্রচার, সভা এবং রোড-শো করতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও থামেননি। প্রশ্ন উঠছে, শরীর খারাপ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি বিশ্রামের পরিবর্তে প্রচারের ময়দানে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন?

জনপ্রতিনিধির দায়বদ্ধতা বনাম শারীরিক সীমাবদ্ধতা

একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেবের এই কর্মকাণ্ড অনেককে অবাক করলেও, রাজনীতির ময়দানে এটি নতুন কিছু নয়। তবে দেবের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা। অভিনেতা হিসেবে তিনি যতটা জনপ্রিয়, সাংসদ হিসেবে ঘাটালের মানুষের কাছে তিনি ততটাই কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন। প্রচারের সময় তার অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্ত ও অনুগামীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তিনি বিশ্রামের বদলে কাজকেই বেছে নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তের তীব্র ব্যস্ততা এবং ঘাটালের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা।

কেন থামছেন না দেব?

রাজনীতির অন্দরের খবর অনুযায়ী, ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রটি এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ দলের চ্যালেঞ্জ এবং নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ বজায় রাখা—এই দুইয়ের চাপে দেব কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। প্রচণ্ড রোদে অসুস্থ বোধ করা সত্ত্বেও তিনি রোড-শো এবং জনসভা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের মতে, এটি কেবল ভোটের লড়াই নয়, এটি মানুষের সাথে তৈরি হওয়া আবেগের একটি পরীক্ষা। তিনি জানেন যে, এই সময়ে সরে দাঁড়ালে বিরোধীরা সুযোগ নিতে পারে, তাই শরীরকে অবজ্ঞা করেই তিনি ময়দানে টিকে রয়েছেন।

জনগণের ভালোবাসা ও আবেগের টান

দেব বরাবরই নিজেকে একজন ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তার এই প্রচারের ধরণ এবং মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। যখন তিনি অসুস্থ অবস্থায়ও মানুষের কাছে পৌঁছান, তখন সেটি ভোটারদের মনে একটি গভীর প্রভাব ফেলে। সমালোচকরা হয়তো একে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ বলতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এটি তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা হিসেবেই গণ্য হয়। রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে তিনি যখন মাইক হাতে মানুষের সামনে দাঁড়ান, তখন তিনি কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন করেন।

নির্বাচনী প্রচারের এই দৌড়ঝাঁপ শেষ হওয়ার পর হয়তো তিনি দীর্ঘ বিশ্রামের সুযোগ পাবেন, কিন্তু বর্তমানের এই কঠিন সময়টি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন শিল্পী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠার পথে শারীরিক অসুস্থতা তাকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, তার অদম্য মানসিক শক্তি তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, মানুষের পাশে থাকার এই জেদই তাকে অন্যান্য তারকা প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে তোলে। শরীর ও মনের এই লড়াই হয়তো আগামী দিনে তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও মজবুত করবে, কারণ শেষ বিচারে মানুষ সেই প্রতিনিধিকেই বেছে নিতে চায়, যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের পাশে থাকতে পিছপা হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *