Headlines

আইনি বিচ্ছেদের পথে স্বরূপ বিশ্বাস ও জুঁই বিশ্বাস: ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে

আইনি বিচ্ছেদের পথে স্বরূপ বিশ্বাস ও জুঁই বিশ্বাস: ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে Photo by August de Richelieu on Pexels

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানছেন স্বরূপ ও জুঁই

তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস এবং টলিউড ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টেনে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে জুঁই নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০১৯ সাল থেকেই তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা থাকছিলেন এবং এই বছরের শুরু থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি

স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘ সময় ধরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বরূপ বিশ্বাসের জনসমক্ষে উপস্থিতিও কমে যায়। জুঁই বিশ্বাস জানান, ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এই বিচ্ছেদ সম্পূর্ণভাবে তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এর সাথে রাজনৈতিক কোনো পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে

নিজের বক্তব্যে জুঁই বিশ্বাস স্পষ্ট করেছেন যে, টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক কোনো ঘটনা তাঁদের সম্পর্কের এই পরিণতির কারণ নয়। তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসুক বা না আসুক, এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত আমাদের ব্যক্তিগত। তাদের দুই কন্যার ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাঁরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোভিডের সময় পরিস্থিতির চাপে আলাদা থাকার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলেও, বর্তমানে তাঁরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করছেন।’

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

জুঁই বিশ্বাস বর্তমানে একজন তৃণমূল কাউন্সিলর হিসেবে নিজের ওয়ার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তিনি জানিয়েছেন, কাজের প্রয়োজনে স্বরূপ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ থাকলেও, তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখন অতীত। দলের প্রতি নিজের ক্ষোভ বা ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, টলিউডের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাঁর বিশেষ কোনো তথ্য নেই এবং তিনি সাধারণ মানুষের মতোই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

ভবিষ্যতের পথচলা

রাজনৈতিক মহলে এই বিচ্ছেদের খবরটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলেও, জুঁই বিশ্বাস বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসরেই রাখতে চাইছেন। আগামী দিনে তাঁদের দুই কন্যার সুরক্ষা এবং নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের দিকেই এখন তাঁর মূল মনোযোগ। আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং পরবর্তীতে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে কী পরিবর্তন আসে, তা এখন দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক ও বিনোদন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *