Headlines

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস: দুই মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে মূল্যবান ধাতু

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস: দুই মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে মূল্যবান ধাতু Photo by Michael Steinberg on Pexels

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন

চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। ২৯ মে, ২০২৬ তারিখে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর দরপতন ত্বরান্বিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি কেবল বিশ্ববাজারে নয়, বরং কলকাতা, দিল্লি এবং অন্যান্য ভারতীয় শহরগুলোর স্থানীয় বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

বাজারের প্রেক্ষাপট ও অস্থিরতার কারণ

স্বর্ণের দাম সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি এবং সুদের হার নিয়ে নতুন ইঙ্গিতের কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ডলারে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় স্বর্ণের চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে হ্রাস পেয়েছে, যা দাম কমার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন অর্থনীতিবিদরা।

স্থানীয় বাজারে প্রভাব

আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার ছোঁয়া লেগেছে ভারতের স্থানীয় বাজারেও। কলকাতা ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দাম কমার ফলে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তারা এখনো সতর্ক। স্বর্ণের এই দরপতন সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অলঙ্কার কেনার সুযোগ তৈরি করলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ও তথ্য

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই পতন সাময়িক হতে পারে যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান ডেটা অনুযায়ী, ৯৯৯৯ ২৪ ক্যারেট মানের সোনার দাম গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় কয়েক শতাংশ নিচে নেমেছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কগুলোতে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করায় বড় ধরনের সেল-অফ বা বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নজরদারি

স্বর্ণের দামের এই অস্থিরতা আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিনিয়োগকারীদের এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সভার দিকে নজর রাখতে হবে, যা মুদ্রানীতির নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। যদি ডলারের মান আরও শক্তিশালী হয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব বাজারে কোনো বড় রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে পরিস্থিতি উল্টো দিকে মোড় নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই দরপতন দীর্ঘস্থায়ী হয় কি না নাকি এটি একটি সাময়িক সংশোধন মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *