উত্তরপ্রদেশ সরকার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘তিন তালাক’ এবং অ্যাসিড হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের জন্য আবাসন ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা প্রদানের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশনায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে এই দুই শ্রেণির মহিলারা সরকারি প্রকল্পের আওতায় বাড়ি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবেন।
প্রকল্পের আওতা ও উদ্দেশ্য
উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে ‘তিন তালাক’ এবং অ্যাসিড হামলার শিকার মহিলাদের থাকার জন্য বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। এছাড়াও, তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হবে। রাজ্যের মহিলা কল্যাণ বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা অথবা মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে এই বাড়িগুলি প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় চিহ্নিত মহিলাদের স্বাস্থ্যবিমা প্রদান করা হবে।
তথ্য সংগ্রহ ও যোগ্যতা
মুখ্যমন্ত্রী যোগীর নির্দেশ অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই জেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য অসহায় মহিলাদেরও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে। কারা সরকারি প্রকল্পে বাড়ি এবং স্বাস্থ্য বিমা পাবেন, তাঁদের যোগ্যতার মাপকাঠি কী হবে, বাড়ি বণ্টনের প্রক্রিয়া এবং স্বাস্থ্য বিমা পাওয়ার পদ্ধতি—এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। বর্তমানে শর্তাবলী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
‘তিন তালাক’ আইন ও তার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত ‘তিন তালাক’ প্রথাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। এরপরও এর অবসান ঘটেনি বলে দাবি করে, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে ‘দ্য মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অফ রাইটস অন ম্যারেজ)’ আইন পাশ করে। এই আইনে মৌখিক, লিখিত অথবা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে দেওয়া ‘তিন তালাক’ সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ এবং বাতিল ঘোষণা করা হয়। এটি একটি জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাবাস এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার এবার ‘তিন তালাক’ দ্বারা পীড়িত মহিলাদের মাথার উপর ছাদ গড়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে। লখনউ সূত্রে খবর, আইনি সুরক্ষার বাইরে থাকা এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
অ্যাসিড হামলা: পরিসংখ্যান ও আইনি ব্যবস্থা
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং রাজ্যের আইন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে খোলা বাজারে অ্যাসিড বিক্রি নিষিদ্ধ। ভেন্ডরদের লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক এবং অ্যাসিড কেনার সময় ক্রেতার পরিচয়পত্র দেখানো জরুরি, যা দোকানদারকে নথিভুক্ত করতে হয়।
তবে, বাস্তবে এখনও খোলা বাজারে অবাধে অ্যাসিড বিক্রি হচ্ছে এবং তা সহজেই যে কারও হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে উত্তরপ্রদেশে ৩১টি অ্যাসিড হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসিড হামলার তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য দু’বছর পিছিয়ে থাকে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, উত্তরপ্রদেশে ১৯৮টি অ্যাসিড হামলার মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
ভবিষ্যৎ
এই নতুন আবাসন ও স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পগুলি ‘তিন তালাক’ এবং অ্যাসিড হামলার শিকার মহিলাদের জীবনে একটি নতুন দিশা দেখাতে পারে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং কতজন মহিলা এর থেকে উপকৃত হন, তা সময়ই বলবে।