Headlines

এভারেস্টের চূড়ায় চিরনিদ্রায় পর্বতারোহী অরুণ কুমার তিওয়ারি: এক আবেগী সিদ্ধান্ত

এভারেস্টের চূড়ায় চিরনিদ্রায় পর্বতারোহী অরুণ কুমার তিওয়ারি: এক আবেগী সিদ্ধান্ত Photo by INFINITY ADVENTURE NEPAL on Pexels

গত ২১ মে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার পর ফেরার পথে হিলারি স্টেপের কাছে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৫৩ বছর বয়সি তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অরুণ কুমার তিওয়ারি। শৃঙ্গ জয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ নেওয়ার পর, অরুণের পরিবার তাঁর দেহ এভারেস্টেই রেখে দেওয়ার এক কঠিন ও আবেগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পরিবারের দাবি, হিমালয় তথা এভারেস্টকে তাঁরা ভগবান শিবের আলয় বলে মনে করেন, তাই পর্বতারোহী অরুণ সেখানেই চিরতরে বিশ্রাম নেবেন।

এভারেস্ট অভিযানের প্রতিকূলতা ও অরুণের জীবন

অরুণ কুমার তিওয়ারি একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ছিলেন, যিনি এর আগে রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রুজ, আলাস্কার মাউন্ট ডেনালি এবং আর্জেন্টিনার মাউন্ট আকেনকাগোয়া জয়ের মতো কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ২০২৫ সালে এভারেস্ট জয়ের প্রাথমিক ব্যর্থতার পর, এবছর তিনি পুনরায় অভিযান শুরু করেন। তবে শৃঙ্গ জয়ের পর ফেরার পথে চরম ক্লান্তি এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর ক্যাম্পের নিচে পৌঁছাতে পারেননি।

কেন দেহ উদ্ধার করা অসম্ভব?

মাউন্ট এভারেস্টের ৮,০০০ মিটারের ওপরের অংশকে ‘ডেথ জোন’ বলা হয়, যেখানে অক্সিজেন অত্যন্ত বিরল এবং আবহাওয়া চরম প্রতিকূল। এই উচ্চতা থেকে দেহ উদ্ধার করা উদ্ধারকারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। উদ্ধারকারী দলের মতে, একটি দেহ নিচে নামিয়ে আনতে অন্তত ৮ থেকে ১২ জন দক্ষ পর্বতারোহীর প্রয়োজন হয় এবং এর আনুমানিক খরচ প্রায় ৭১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অরুণের পরিবারের মতে, এই উদ্ধারকাজে নেমে অন্য কারো প্রাণ সংশয় হোক, তা তাঁরা চান না।

পর্বতারোহণে মৃত্যুর মিছিল ও বাস্তবতা

অরুণের পাশাপাশি এবছর সন্দীপ আরে নামের ৪৬ বছর বয়সি অপর এক পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও উদ্ধারকারীদের সহায়তায় সন্দীপের দেহ ক্যাম্প-২ পর্যন্ত নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু অরুণের ক্ষেত্রে পরিবার দেহ ফিরিয়ে আনার চেয়ে পাহাড়ের প্রতি তাঁর অমোঘ আকর্ষণকে সম্মান জানানোকেই শ্রেয় মনে করেছে। এই সিদ্ধান্ত হিমালয়ের প্রতি পর্বতারোহীদের গভীর অনুরাগ ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও নজরদারি

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে ক্রমবর্ধমান পর্যটন ও অভিযানের ভিড়ে পর্বতারোহীদের নিরাপত্তা ও উদ্ধার অভিযানের জটিলতা এখন বড় আলোচনার বিষয়। ভবিষ্যতে এভারেস্ট অভিযানে মৃত্যুহার কমাতে এবং উদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ নতুন কোনো প্রযুক্তি বা নিয়ম প্রবর্তন করে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রীড়া বিশ্ব। একই সাথে, উচ্চতায় শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে আরও কঠোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *