বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব বিতর্ক স্তিমিত হতে না হতেই নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক জনার্দন রেড্ডি। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে, রাজ্যের স্কুলগুলোতে নাম ডাকার সময় শিক্ষার্থীদের ‘ইয়েস স্যার’ বা ‘ইয়েস ম্যাম’-এর পরিবর্তে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে সাড়া দেওয়া উচিত। কংগ্রেস সরকার রাজ্যে হিজাব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করতে গিয়েই এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন রেড্ডি। এই প্রস্তাবটি মূলত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির একটি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজ্যের আসন্ন শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পটভূমি: হিজাব বিতর্ক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
কর্ণাটকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পোশাক বিধি নিয়ে বিবাদ দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে তৎকালীন বিজেপি সরকারের আমলে হিজাব পরে স্কুল-কলেজে ঢোকার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই সময় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং কর্ণাটক উচ্চ আদালত সরকারি সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখে। তবে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সরকার সম্প্রতি হিজাব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা নিয়ে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বাদানুবাদ তুঙ্গে।
এই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই জনার্দন রেড্ডি তার প্রস্তাবটি সামনে আনেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস সরকার ‘সংখ্যালঘু তোষণ’-এর রাজনীতি করছে। তার মতে, যদি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাকের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি হাজিরা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করেন।
জনার্দন রেড্ডির দাবি ও রাজনৈতিক অবস্থান
জনার্দন রেড্ডি তার বক্তব্যে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক বসনগৌড়া পাতিল ইয়াতনালের একটি পুরনো সুপারিশের কথা উল্লেখ করেন। ইয়াতনাল বর্তমানে দলবিরোধী কাজের জন্য বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত এবং নির্দল বিধায়ক হিসেবে কাজ করছেন। রেড্ডি বলেন, যদিও ইয়াতনাল এখন দলে নেই, তবে তার প্রস্তাবটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং যৌক্তিক। রেড্ডির মতে, পাশ্চাত্য কায়দায় ‘ইয়েস স্যার’ বলার চেয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বলা অনেক বেশি সম্মানজনক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি এই দাবিকে ১০০ শতাংশ সমর্থন করেন। শুধু স্লোগানই নয়, তিনি চান শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেরুয়া পাগড়ি এবং গেরুয়া চাদরও ব্যবহার করুক। রেড্ডির ভাষায়,