Headlines

কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে

কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে Photo by Monojit Dutta on Pexels

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য। রাজ্যের পরিবহন ও আবাসন মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম মঙ্গলবার (১২ই মার্চ, ২০২৪) তাঁর মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর (এবং তৃণমূল সুপ্রিমো) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ‘সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি’ চেয়ে আবেদন করেন এবং অনুমতিও পান। এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে যে নেত্রী ফিরহাদের উপর ক্ষুব্ধ।

দীর্ঘদিন ধরেই ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর এই পদত্যাগ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একটি বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দলীয় সূত্রে খবর, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরহাদের কিছু কাজের উপর অসন্তুষ্ট ছিলেন, যার জেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও ফিরহাদ স্বয়ং এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে যে তিনি ‘সম্মানের সঙ্গে’ পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন।

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ফিরহাদ হাকিম নবান্ন (রাজ্য সচিবালয়) থেকে সরাসরি পুরসভায় যান, কিন্তু কালীঘাট (মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন) এড়িয়ে যান। এই ঘটনাকে অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, দলের আরেক নেতা কুণাল ঘোষও সম্প্রতি ইস্তফা সংক্রান্ত মন্তব্য করেছিলেন, যা এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে, ফিরহাদ হাকিম তাঁর মেয়র পদ ছাড়লেও, মন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্বের টানাপোড়েন বা দলীয় শৃঙ্খলার অভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনায় সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মেয়র পারিষদ তারক সিং-এর ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাও এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। তারক সিং-এর ইস্তফা পুরসভায় ভাঙন ধরানোর সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে, বিরোধী দলগুলিও তৃণমূলকে নিশানা করতে ছাড়েনি। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল মন্তব্য করেছেন যে শহর এগিয়ে যাবে এবং উন্নয়নও চলবে। তাঁর কথায়, মেয়রের পদত্যাগ ঘিরে জল্পনা চললেও, প্রশাসনিক কাজ থেমে থাকবে না। তিনি ফিরহাদ হাকিমের এই সিদ্ধান্তকে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন, নিউজ১৮ বাংলা, এবিপি আনন্দ, আজকাল।

ফিরহাদ হাকিমের এই পদত্যাগের ফলে কলকাতার মেয়র পদে কে আসবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি কি দলের তরুণ প্রজন্মের নেতাদের উত্থানের ইঙ্গিত, নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক চাল, তা সময়ই বলবে। তবে, এই ঘটনা নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *