Headlines

কলকাতাসহ রাজ্যজুড়ে গভীর রাতে ভূমিকম্প, আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ

কলকাতাসহ রাজ্যজুড়ে গভীর রাতে ভূমিকম্প, আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ Photo by samimibirfotografci on Pexels

মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎই কেঁপে উঠল কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। মঙ্গলবার রাত ১টা বেজে ৩৯ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভারত-ভুটান সীমান্ত। আকস্মিক এই ঘটনায় শহর ও শহরতলির বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপট

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পৃথিবীর ভূত্বকের হঠাৎ আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়। টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালনের কারণে এই ধরণের আলোড়ন ঘটে। ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে অতীতেও একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বিস্তারিত ঘটনা

মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই মাটি কেঁপে ওঠে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কম্পন অনুভূত হয়। অনেকেই ঘুম থেকে জেগে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কয়েক সেকেন্ড ধরে এই কম্পন স্থায়ী হয়।

ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে, যা তুলনামূলকভাবে গভীর বলে জানা গেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭। এর কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল।

আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি

ভূমিকম্পের আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে প্রাথমিক রিপোর্টে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কিছু জায়গায় পুরনো বাড়ির দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ ঘটনার বিবরণ শেয়ার করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ভূবিজ্ঞানীদের মতে, হিমালয় অঞ্চল টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে অত্যন্ত সক্রিয়। ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চলে প্রায়শই ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের মতো দেশগুলিও এই ভূমিকম্পের জেরে প্রভাবিত হয়েছে। ঢাকাতেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতা শহরটি একটি উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। শহরটির নিচে থাকা নরম মাটি এবং পুরনো পরিকাঠামো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ভূমিকম্প একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে এই ধরনের কম্পনের পর বিশেষজ্ঞরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন। পুরোনো বাড়িগুলির পরিকাঠামো পরীক্ষা করা, বিল্ডিং কোড মেনে নতুন নির্মাণ করা এবং জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুতি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনার পর রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও ভূমিকম্পের সময় কী করণীয় সে বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলে আরও কম্পন অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *