শনিবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের অদূরে ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটের একটি বাণিজ্যিক ভবনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থিত ইলেকট্রিক মিটার বক্সে পর পর বিস্ফোরণের ফলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, ফলে বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি
হাইকোর্টের এফ গেটের উল্টো দিকে অবস্থিত ১০ নম্বর ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটের ভবনটি মূলত বিভিন্ন ল ফার্মের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এদিন অনেক আইনজীবী ও ক্লার্ক ভবনের ভেতরে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুপুর নাগাদ ইলেকট্রিক প্যানেল থেকে আগুনের ফুলকি ও পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
শর্ট সার্কিট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব
প্রাথমিক তদন্তে দমকল বাহিনী এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা শর্ট সার্কিটকেই এই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভবনের ভেতরে বৈদ্যুতিক তারগুলি অত্যন্ত ঘিঞ্জি অবস্থায় ছিল, যা আগুনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিইএসসি-র কর্মীরা শেষ পর্যন্ত পৌঁছালেও সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।
রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার সংকট
ঘটনার পর ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেয়ারটেকার। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাস্টের অধীনে থাকা এই ভবনের ভাড়া অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় নিয়মিত আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও দুবছর আগে সিইএসসি মিটার বক্সগুলি সংস্কার করেছিল, তবুও বর্তমানের এই দুর্ঘটনা পুরনো পরিকাঠামোর দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
শিল্প ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব
কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনিক নিরাপত্তাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ এবং ইলেকট্রিক প্যানেলের নিয়মিত অডিট না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই ঘটনা শহরের পুরনো বাণিজ্যিক ভবনগুলির অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতের করণীয়
আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রতিটি বাণিজ্যিক ভবনে ফায়ার সেফটি অডিট বাধ্যতামূলক করা এবং বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো নিয়মিত পরীক্ষা করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কলকাতা পৌরসংস্থা ও দমকল বিভাগ যৌথভাবে শহরের পুরনো ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।