Headlines

কেরলের ‘প্রজেক্ট মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি’: ঋতুস্রাবে স্কুলে তিন দিন ছুটি, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সমান বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

কেরলের 'প্রজেক্ট মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি': ঋতুস্রাবে স্কুলে তিন দিন ছুটি, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সমান বেতন ও অন্যান্য সুবিধা Photo by MD Photography on Pexels

তিরুঅনন্তপুরম: কেরলের কংগ্রেস সরকার মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘প্রজেক্ট মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি’ নামে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায়, ছাত্রীদের ঋতুস্রাব চলাকালীন স্কুলে তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটির সুবিধা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের পুরুষদের সমান বেতন এবং সন্তান জন্মের পর কর্মজীবীদের জন্য ডে-কেয়ার ও ক্রেশ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলিও চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন প্রস্তাবগুলি ‘প্রজেক্ট মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি’-র অংশ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হল মহিলাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং কর্মজীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্কুলগুলিতে ঋতুস্রাবকালীন ছুটির নিয়মটি ঐচ্ছিক, অর্থাৎ যে সমস্ত ছাত্রী ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক অস্বস্তি বা যন্ত্রণার সম্মুখীন হন, তারা এই ছুটি নিতে পারবেন।

স্কুলে অনুপস্থিতির কারণে যাতে ছাত্রীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, তার জন্য সপ্তাহান্তে বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ ক্লাসের আয়োজন করা হবে। এই পদক্ষেপটি কেরলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কয়েক বছর আগে চালু হওয়া একই ধরনের সুবিধার সম্প্রসারণ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রাক্তন ডিআইজি আর শ্রীলেখা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ঋতুস্রাবকালীন ছুটি কি মহিলাদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে কিনা। তবে, রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর জানিয়েছেন যে এই ব্যবস্থা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরগুলিকে মহিলাদের জন্য আরও উপযুক্ত করে তুলবে এবং কেরলকে দেশের মধ্যে একটি মহিলা-বান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণ করবে।

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য, মহিলাদের পুরুষদের সমান বেতন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এটি দেশের কর্মক্ষেত্রে বেতন বৈষম্য কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও, ১৯৬১ সালের মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইনের অধীনে ‘চাইল্ড কেয়ার রুলস’ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৫০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন সরকারি অফিস, শিল্পাঞ্চল এবং তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরগুলিতে ডে-কেয়ার এবং ক্রেশ সুবিধা স্থাপন করা হবে। এর উদ্দেশ্য হল সন্তান জন্মের পর মহিলাদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য না করা এবং কর্মক্ষেত্রেই শিশুদের নিরাপদ পরিচর্যার ব্যবস্থা করা।

অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলারাও এই প্রকল্পের আওতায় বিশেষ সুবিধা পাবেন। তারা ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। দেশের সমস্ত শহরে মহিলাদের জন্য বিশেষ বিশ্রামাগার (রেস্টরুম) স্থাপন করা হবে, যেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যাবে।

কেরলকে অনাথ-মুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য, রাজ্য সরকার দত্তক সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও করেছে। এই সামগ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে কেরল সরকার মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সমাজে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *