Headlines

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে SpaceX রকেট! তীব্র বিস্ফোরণ, নয়া গহ্বর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে SpaceX রকেট! তীব্র বিস্ফোরণ, নয়া গহ্বর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা Photo by ViCky SiNgh on Pexels

মহাকাশে পরিত্যক্ত আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রি সমস্যা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, কারণ ইলন মাস্কের সংস্থা SpaceX-এর একটি পরিত্যক্ত রকেট অংশ চাঁদের দিকে ধেয়ে চলেছে। আগামী ৫ অগাস্ট ২০২৫ তারিখে ‘2025-010D’ নামে পরিচিত এই ৪৫ ফুট দীর্ঘ ফ্যালকন ৯ রকেটের উপরিভাগ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়বে বলে নিশ্চিত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই ঘটনাটি চাঁদের গহ্বর সৃষ্টির পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণার নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রকেটের পরিচয়

প্রজেক্ট প্লুটো-র রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই রকেট অংশটি দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর কক্ষপথে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এটি মূলত নীল ঘোস্ট ল্যান্ডার এবং হাকুতো-আর ল্যান্ডার মিশনের সঙ্গে যুক্ত ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি অংশ। সাধারণত মহাকাশ সংস্থাগুলো রকেটের পরিত্যক্ত অংশগুলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে এনে পুড়িয়ে ফেলে বা নির্দিষ্ট কক্ষপথে রাখে, কিন্তু এই অংশটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাঁদের অভিকর্ষ বলের দিকে এগিয়ে গেছে।

সংঘর্ষের প্রভাব ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিল গ্রে-র হিসাব অনুযায়ী, রকেটটি ঘণ্টায় প্রায় ৮,৭০০ কিলোমিটার গতিবেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করবে। এই প্রচণ্ড গতির ফলে চাঁদের বুকে আইনস্টাইন গহ্বরের কাছাকাছি একটি নতুন গহ্বর তৈরি হতে পারে। যদিও এই সংঘর্ষে পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে এটি চাঁদের ভূতাত্ত্বিক গঠনে একটি কৃত্রিম প্রভাব ফেলবে।

মহাকাশ আবর্জনা নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা মহাকাশে ক্রমবর্ধমান আবর্জনার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। বিল গ্রে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মহাকাশে এ ধরনের পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশ ফেলে রাখা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। যদিও ২০২২ সালে চিনের একটি রকেট একইভাবে চাঁদে আছড়ে পড়েছিল, তবে SpaceX-এর এই ঘটনাটি আবারও মহাকাশ সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবিকে জোরালো করছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও পর্যবেক্ষণ

পৃথিবী থেকে এই বিস্ফোরণ সরাসরি দেখা সম্ভব না হলেও, পরবর্তী সময়ে উপগ্রহের মাধ্যমে চাঁদের ওই নতুন গহ্বরটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে বিজ্ঞানীদের সামনে। এই ঘটনাটি মহাকাশ অভিযানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে মহাকাশ সংস্থাগুলো তাদের পরিত্যক্ত রকেটগুলোর গতিপথ নিয়ন্ত্রণে কতটা কঠোর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *