কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর (অরেঞ্জ লাইন) করিডোরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পে সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই এই অংশের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, যার ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই পথে মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই উন্নয়ন শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও বাধা
নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো করিডোরটি কলকাতার পূর্ব প্রান্তের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প। এই প্রকল্পটি শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট কমাতে এবং দ্রুত পরিবহনের সুবিধা প্রদানে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অরেঞ্জ লাইনটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন রুবি হাসপাতাল, সাইন্স সিটি, নিউ টাউন এবং শেষ পর্যন্ত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সংযুক্ত করবে। তবে, এই প্রকল্পের কাজ শুরু থেকেই নানা বাধা ও জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণ, স্থানীয় প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাজের গতিকে মন্থর করে রেখেছিল।
চিংড়িঘাটা অংশটি এই করিডোরের একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের উপর অবস্থিত। এই এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ এবং যানজটপূর্ণ হওয়ায় নির্মাণ কাজ বরাবরই চ্যালেঞ্জিং ছিল। গত কয়েক বছর ধরে এই অংশের কাজ বিভিন্ন কারণে থমকে ছিল, যা প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করে। এমনকি, কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১০ মাস পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা সামগ্রিক প্রকল্পের জটিলতা আরও বাড়িয়েছিল। এই দীর্ঘসূত্রিতা যাত্রীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছিল এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
ঝড়ের গতিতে কাজ: সময়ের আগেই লক্ষ্য পূরণ
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পে এক নতুন গতি এসেছে। মেট্রো রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে মেট্রো ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত ফ্লাইওভারের ওপর এই ধরনের বৃহৎ নির্মাণ কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিবিড় পরিকল্পনা প্রয়োগ করে তা সম্ভব হচ্ছে। এবিপি আনন্দ সূত্রে খবর, মেট্রো রেলের চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার (CPRO) কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন যে, এই অংশের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে এবং তাঁরা আশাবাদী যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।
কাজের এই দ্রুত গতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সহায়ক হয়েছে। এছাড়া, নির্মাণকারী সংস্থাগুলি আধুনিক সরঞ্জাম ও পদ্ধতি ব্যবহার করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করছে। রাতের বেলায় বিশেষ করে বাইপাসের যান চলাচল কম থাকার সুযোগ নিয়ে বড় বড় গার্ডার বসানোর কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই কাজের গতি দেখে মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ডেটা পয়েন্ট
মেট্রো রেলের CPRO কৌশিক মিত্রের মতে,