Headlines

চিড়িয়াখানার নতুন আকর্ষণ মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

চিড়িয়াখানার নতুন আকর্ষণ মহিষ 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' Photo by Tatiana on Pexels

চিড়িয়াখানায় মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঈদুল আজহার প্রাক্কালে ঢাকার মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় এক বিশেষ মহিষকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে অদ্ভুত মিল থাকায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম পাওয়া এই অ্যালবিনো মহিষটি এখন দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কোরবানির হাটের পরিবর্তে এই মহিষটিকে সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে, যার ফলে ঈদের দিনও সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

প্রেক্ষাপট ও ঘটনার সূত্রপাত

সাধারণত ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর হাটে বিভিন্ন নামের ও ওজনের পশুর দেখা মেলে। তবে এই মহিষটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে। এর গায়ের রঙ এবং অবয়বের সাথে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টের কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়ায় মালিকপক্ষ মজা করে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হলেও, শেষ পর্যন্ত প্রাণিটির অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে মালিক এটিকে চিড়িয়াখানায় দান করার সিদ্ধান্ত নেন।

চিড়িয়াখানায় জীবনের নতুন অধ্যায়

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থান পাওয়ার পর থেকে মহিষটি এখন সরকারি তত্ত্বাবধানে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিরল প্রজাতির এই অ্যালবিনো মহিষটি চিড়িয়াখানার প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। দর্শনার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে এই প্রাণীটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন, যা চিড়িয়াখানার দৈনিক টিকিট বিক্রিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রাণিবিদ্যার দৃষ্টিভঙ্গি

প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, মহিষের গায়ের এই সাদা বা হালকা রঙের বৈচিত্র্য কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি জেনেটিক মিউটেশনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যাকে সাধারণত ‘অ্যালবিনিজম’ বলা হয়। চিড়িয়াখানার কিউরেটররা জানিয়েছেন, এই মহিষটি সাধারণ মহিষের চেয়ে কিছুটা আলাদা এবং এর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি এর স্বাস্থ্যের দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।

সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এখন প্রাণী জগতের প্রতি মানুষের আগ্রহকেও বদলে দিচ্ছে। কেবল কোরবানির পশু হিসেবে না দেখে, প্রাণীটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষ মালিকের এই সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। এটি প্রাণীদের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সামনে যা অপেক্ষা করছে

ভবিষ্যতে এই মহিষটি চিড়িয়াখানার নিয়মিত দর্শনার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী আকর্ষণ হয়ে থাকবে কি না, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করছে। প্রাণি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহিষটির প্রজনন ক্ষমতা এবং বংশবিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা হলে তা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন তথ্যের যোগান দিতে পারে। আগামী দিনগুলোতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *