উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক মর্মান্তিক ঘটনায় জাতীয় স্তরের প্রতিভাবান প্যারা অ্যাথলিট চিরাগ ত্যাগী (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়েছেন। জাপানে আসন্ন প্যারা এশিয়ান গেমসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ঠিক আগে তাঁর এই অকাল প্রয়াণ ক্রীড়া মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। পুলিশ এই খুনের ঘটনায় তাঁরই প্রতিদ্বন্দ্বী যশ খটিককে গ্রেফতার করেছে, প্রাথমিকভাবে পেশাগত ঈর্ষা ও প্রতিশোধস্পৃহা এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে জানা গেছে। গত শনিবার গাজিয়াবাদের সাই কুঞ্জ এলাকা থেকে চিরাগের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়।
জাতীয় স্তরের প্রতিভার মর্মান্তিক পরিণতি
চিরাগ ত্যাগী একজন উদীয়মান প্যারা অ্যাথলিট ছিলেন, যিনি ট্র্যাকে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছিলেন। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্যারা অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ৪০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। এই সাফল্যের সুবাদে তিনি চলতি বছরের অক্টোবর মাসে জাপানে আয়োজিত প্যারা এশিয়ান গেমসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। তাঁর পরিবার এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গন তাঁর কাছ থেকে আরও অনেক সাফল্যের স্বপ্ন দেখছিল, যা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নিষ্ঠুরভাবে কেড়ে নেওয়া হলো।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে। চিরাগ তাঁর কাকা রাজেশ ত্যাগীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি দুপুর ৩:৩০ নাগাদ বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি ফেরেননি। এরপর তাঁর ফোন সুইচড অফ পাওয়া যায় এবং তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ নিয়ে গাজিয়াবাদ থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করলেও, চিরাগের সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর, গত শনিবার বিকেলে গাজিয়াবাদের সাই কুঞ্জ এলাকা থেকে চিরাগের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরে একাধিক গুলির ক্ষত ছিল, যা নিশ্চিত করে যে এটি একটি ঠান্ডা মাথার খুন। এই ঘটনা গোটা ক্রীড়াঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিদ্বন্দ্বীর গ্রেফতারি
পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত চালায় এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। ফুটেজে দেখা যায় চিরাগের সঙ্গে যশ খটিক নামের এক ব্যক্তিকে। এরপরই যশকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। যশও একজন প্যারা অ্যাথলিট এবং ‘দৃষ্টিহীন’ ক্যাটাগরিতে চিরাগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চিরাগ ও যশের প্রায় এক দশক ধরে পরিচয় ছিল এবং তারা একসময় একই সঙ্গে অনুশীলনও করতেন। এমনকি, গত পাঁচ বছর ধরে তারা একই ঘরে থাকতেন, যা তাদের সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে যশ স্বীকার করেছে যে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় চিরাগের অভিযোগের কারণে নথি যাচাইকরণের সময় যশ ডিসকোয়ালিফায়েড হয়ে যান। এই অপমান এবং পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই যশ চিরাগকে খুন করার পরিকল্পনা করে। ডিসিপি ধবল জয়সওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যশ চিরাগকে একটি ফাঁকা জায়গায় ডেকে নিয়ে পিছন থেকে গুলি করে হত্যা করে। যশকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পেশাগত ঈর্ষা: ক্রীড়াঙ্গনের এক অন্ধকার দিক
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্ধকার দিকটি তুলে ধরেছে। যেখানে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও স্পোর্টসম্যানশিপ কাম্য, সেখানে পেশাগত ঈর্ষা কীভাবে একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জীবন কেড়ে নিতে পারে, তা এই ঘটনা প্রমাণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, খুনে ব্যবহৃত পিস্তলটির খোঁজ চলছে এবং এই ঘটনায় যশের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে ঘটনার আরও অনেক দিক স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় প্যারা অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,