কলকাতা: টলিউডের পরিচিত মুখ, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ সম্প্রতি শিল্পী নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতার প্রসঙ্গে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতায় এবং এর ফলে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রুদ্রনীলের মতে, ‘যা হয়, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’, এবং স্বরূপের গ্রেফতার এই দীর্ঘদিনের সমস্যারই বহিঃপ্রকাশ।
স্বরূপ বিশ্বাস, যিনি পশ্চিমবঙ্গ ফেডারেশন অফ সিনেমার টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিনি ফেডারেশনের ক্ষমতা ব্যবহার করে ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধরনের মাফিয়া রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। রুদ্রনীলের অভিযোগ, স্বরূপ এবং তাঁর ভাই অরূপ বিশ্বাস, যারা ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ ও নির্দেশে টলিউডকে কলুষিত করছিলেন। ফেডারেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার চেয়ারে অবৈধভাবে বসে তাঁরা প্রযোজক, পরিচালক, টেকনিশিয়ান্স এবং শিল্পীদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করেছেন।
রুদ্রনীল আরও অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত নিয়ম না মেনে, তাঁরা মনগড়া নিয়ম তৈরি করে প্রযোজকদের ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছেন। এর ফলে বহু প্রযোজক বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং বাইরে থেকে প্রযোজকেরা এখানে শুটিং করতে আসছেন না। তাঁদের নিয়ম না মানলে শিল্পীদের একঘরে করে দেওয়া হত এবং কাজ কেড়ে নেওয়া হত। রুদ্রনীল ২০২১ সালে এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন এবং টলিউডে মাফিয়া রাজত্ব চলছে বলে অভিযোগ করেছিলেন, যা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করছে।
তাঁর অভিযোগ, সেই সময় স্বরূপ বিশ্বাস টেকনিশিয়ান্সদের বাধ্য করেছিলেন কালো ব্যাজ পরে স্টুডিও থেকে উত্তমকুমারের মূর্তি পর্যন্ত মিছিল করতে। রুদ্রনীলের দাবি, অনেক টেকনিশিয়ান্স শিল্পী ভয়ে তাঁর বিরুদ্ধে হাঁটতে বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ তাঁদের পেটের ভাত কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। রুদ্রনীল বলেন, শুধু শিল্পীদের মধ্যে নয়, কর্মীদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করা হত এবং বিভিন্ন ধরনের লুঠপাট চলত। টলিউডের অলিগলিতে কান পাতলেই এই সব খবর শোনা যেত। ফেডারেশনকে ব্যবহার করে স্বরূপ বিশ্বাস টাকা তোলার জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবে লালবাজারে রাখা হয়েছে। এই ঘটনা টলিউডের অন্ধকার দিকটিকে সামনে এনেছে এবং ইন্ডাস্ট্রির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনার পর টলিউডের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রযোজকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। শিল্পীদের মধ্যে বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গ্রেফতারি কি ইন্ডাস্ট্রিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে, যেখানে স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার প্রাধান্য পাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।