Headlines

তৃণমূলের অন্দরে তীব্র সংঘাত: অভিষেককে নিশানা কল্যাণের, স্পিকারের দ্বারস্থ কাকলি

তৃণমূলের অন্দরে তীব্র সংঘাত: অভিষেককে নিশানা কল্যাণের, স্পিকারের দ্বারস্থ কাকলি Photo by Mikhail Nilov on Pexels

তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অস্থিরতা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দলীয় কোন্দল ও সংঘাত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলরদের পদত্যাগের পর তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। একই সময়ে, লোকসভার ভেতরে নারীবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি চেয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ক্ষোভ

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে দাবি করেন, ২০১১ সালের পর যারা বড় নেতা হয়েছেন, তাদের উত্থানের পেছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা রয়েছে। তিনি আই-প্যাক (I-PAC) নিয়োগ এবং জেলা পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, এর ফলেই দলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার মতে, জেলায় জেলায় ঘুরে বক্তৃতা দিলেও সাংগঠনিক দিকটি দেখার ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

সাংসদদের পারস্পরিক সংঘাত

তৃণমূলের দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মধ্যেকার ব্যক্তিগত আক্রমণ এখন আইনি জটিলতার পথে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ, লোকসভার ভেতরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁকে কটূক্তি করেছেন, যা নারীবিদ্বেষী আচরণের শামিল। তিনি এই আচরণের শাস্তির দাবি জানিয়ে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।

পাল্টা অভিযোগ ও নারদ প্রসঙ্গ

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগের জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নারদকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, লোকসভার মুখ্যসচেতক পদ থেকে সরানোয় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করেন যে, নারদকাণ্ডে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিট থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি স্পিকারের কাছে জানতে চাইবেন।

সংগঠনের ওপর প্রভাব

ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগ এবং নেতাদের প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। কালীঘাটের বৈঠকের পর সাংগঠনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে যে অসন্তোষের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন তৃণমূলের অন্দরে প্রবল ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অভাবই এই ধরনের সংঘাতের মূল কারণ।

ভবিষ্যতের দিকে নজর

আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। লোকসভার স্পিকার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিঠির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল থামাতে কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল। দলের অন্দরের এই অস্থিরতা কি ভবিষ্যতে বড় কোনো ভাঙনের সূচনা করবে, নাকি আপসের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হবে, তা সময়ই বলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *